
আইপ্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং দফতরে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল ইডি। এ বার সেই ঘটনাতেই প্রতীকের প্রতিবেশীদের জবানবন্দি নেবে কলকাতা পুলিশ বলে জানা গিয়েছে। মূলত ইডি আধিকারিকদের সম্পর্কে জানতেই করা হবে জিজ্ঞাসাবাদ।
এক পুলিশ কর্তা এই বিষয়ে জানিয়েছেন যে, কীভাবে ইডি-এর তল্লাশিকারী দল ওই আবাসনে প্রবেশ করেছিল, সেটা জানার চেষ্টা করবে পুলিশ।
ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে নোটিস
প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে চলেছিল ইডি-এর তল্লাশি। এবার সেই আবাসনের একাধিক বাসিন্দাকে নোটিস পাঠিয়েছে ইডি। তাঁদের সকলকে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। তাঁদের করা হবে জিজ্ঞাসাবাদ।
পুলিশের তরফ থেকে জানা যাচ্ছে, সে দিন তল্লাশির সময় কেউ কোনও কিছু লক্ষ্য করেছিল কি না, সেটাই দেখতে চাইছে পুলিশ।
ওই পুলিশ কর্তা জানান, সে দিনের ঘটনা জানা খুবই জরুরি। কী ঘটেছিল, আশপাশের মানুষজন কী দেখেছেন, এই সব বিষয় তথ্য খুঁজে বের করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমেই ঘটনার পুরোটা বোঝা সম্ভব হবে।
কী জানা গিয়েছে?
ইতিমধ্যেই ইডি তল্লাশি নিয়ে তদন্ত শুরু করে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। তারা জানতে পেরেছেন যে ইডি আবাসিকরা আবাসনের রেজিস্টারে নাম লেখাননি। তাঁরা নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কা দিয়েই এই আবাসনে প্রবেশ করেছে। শুধু তাই নয়, কোনও রকম প্রবেশ প্রক্রিয়াও তাঁরা মানেনি। অভিযান চলাকালীন আবাসনের সিকিউরিটি গার্ডের মোবাইল ফোনও জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলেই অভিযোগ করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
কী ঘটেছিল?
গত বৃহস্পতিবার আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে সকাল সকাল পৌঁছে যায় ইডি। কয়লা কেলেঙ্কারির মামলাতেই তাঁদের এই অভিযান বলে জানান হয়।
যদিও এই অভিযান চলার সময়ই সেখানে পৌঁছে যান তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আবাসনে পৌঁছে সটান প্রতীকের ফ্ল্যাটে যান। সেখান থেকে ফাইল এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিস নিয়ে নীচে নামেন।
নীচে এসে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এই অভিযান অসৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। ভোটের আগে তৃণমূলের তথ্য হাতানোই এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি ইডি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধেও তিনি তোপ দাগেন।
এমন পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগর ইলেকট্রনিক্স থানায় একটা অভিযোগ দায়ের করা হয়। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কলকাতা পুলিশ বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসা করতে চলেছে বলে জানা যাচ্ছে।
ও দিকে চুপ থাকেনি ইডি। তারাও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করে। এখন দেখার পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে যায়।