
RG Kar Lift News: মৃত ব্যক্তির দেহ দীর্ঘক্ষণ লিফটের ভেতরে আটকে ছিল। অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীদের। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর এমনটাই বলছেন তাঁরা। দাবি, 'সিকিউরিটি গার্ড থেকে শুরু করে হোমগার্ড; সকলকেই বারবার জানানো হয়েছিল। কিন্তু কাউকেই পাশে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘক্ষণ দেহ ওভাবেই পড়ে ছিল।' শুক্রবার ভোরের এই ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিষেবা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে(Kolkata Hospital Lift Accident)।
'রক্ষণাবেক্ষণাধীন লিফট চলছিল কেন?' প্রশ্ন শুভেন্দু-রূপাদের
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী(Suvendu Adhikari) সরাসরি একে 'খুন' বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, 'রক্ষণাবেক্ষণাধীন লিফটে রোগীকে চড়িয়ে খুন করা হয়েছে।' অন্যদিকে বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করে বলেন, 'একটি সরকারি হাসপাতালে এমন ঘটনা ঘটতে পারে? প্রশাসনকে এর সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে।'
প্রশাসনিক গাফিলতি: অতীন ঘোষ
রোগী কল্যাণ সমিতির অতীন ঘোষের মতে, এটি অবশ্যই প্রশাসনিক গাফিলতি। তাঁর মতে, 'হাসপাতালের সুপারভাইজারকে এর দায় নিতেই হবে। স্থানীয় প্রশাসন আরও সজাগ থাকলে এই মর্মান্তিক মৃত্যু এড়ানো যেত।' পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে আগামী সোমবার একটি জরুরি বৈঠকের আবেদন করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি অনিকেত মাহাতোর
প্রতিবাদী চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁরা ইতিমধেই এমএসভিপি (MSVP)-র সঙ্গে দেখা করছেন। তাঁর বক্তব্য, 'আরজি কর সহ বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসার গাফিলতি এবং পরিকাঠামোর যে সমস্যা রয়েছে, তা নিয়ে আমরা এবং রোগীর পরিজনরা মিলে একটি বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে যাচ্ছি।'
ঠিক কী ঘটেছিল শুক্রবার ভোরে?
দমদমের বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের চার বছরের ছেলের চিকিৎসা করাতে শুক্রবার ভোরে আরজি কর হাসপাতালে গিয়েছিলেন। ভোর ৫টা নাগাদ ট্রমা কেয়ার সেন্টারের লিফটে চেপে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে পাঁচতলায় যাচ্ছিলেন তিনি। স্ত্রী ও পুত্র লিফট থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও, যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে ভেতরেই আটকে পড়েন অরূপবাবু।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, তীব্র ঝাঁকুনির পর লিফটি উপরে না উঠে সরাসরি বেসমেন্টে নেমে যায়। দীর্ঘক্ষণ পর অরূপবাবুকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, সেই সময় লিফটে কোনও অপারেটর ছিল না। হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, চিৎকার শুনে উদ্ধারকারীরা বেসমেন্টে গিয়ে দেহটি উদ্ধার করেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে হাসপাতাল চত্বরে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।