Advertisement

Saradha scam: বিচার ছাড়াই ১২ বছর জেলে সুদীপ্ত সেন, পুলিশ-সিবিআইকে ভর্ৎসনা, ৫২ লক্ষে সম্পত্তি বিক্রিতে অবাক হাইকোর্ট

শুনানির সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক উঠে আসে সারদার সম্পত্তি বিক্রি নিয়ে। আদালতে পেশ করা রিপোর্টে দেখা যায়, সংস্থার ৯টি বাংলো ও একটি ফ্ল্যাট মাত্র ৫২ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এত কম দামে এত সম্পত্তি বিক্রি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত জানতে চায়, কারা এই বিক্রির সঙ্গে যুক্ত এবং কীভাবে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেন।-ফাইল ছবিসারদাকর্তা সুদীপ্ত সেন।-ফাইল ছবি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 08 Apr 2026,
  • अपडेटेड 11:20 AM IST
  • সারদা কেলেঙ্কারির এক দশক পেরিয়েও বিচার প্রক্রিয়া কেন শেষ হয়নি, এই প্রশ্নেই এবার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট।
  • মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেনের জামিন মামলার শুনানিতে রাজ্য পুলিশ ও সিবিআইকে একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে ফেলেন বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ।

সারদা কেলেঙ্কারির এক দশক পেরিয়েও বিচার প্রক্রিয়া কেন শেষ হয়নি, এই প্রশ্নেই এবার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেনের জামিন মামলার শুনানিতে রাজ্য পুলিশ ও সিবিআইকে একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে ফেলেন বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ। যদিও রায় এখনো সংরক্ষিত, আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, সুদীপ্ত সেনের জেলমুক্তি এখন সময়ের অপেক্ষা হতে পারে।

মঙ্গলবারের শুনানিতে সেনের আইনজীবী জানান, সারদা মামলায় মোট ৩৮৯টি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। ২০১৩ সালের ২৭ এপ্রিল গ্রেফতারের পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও বিচার প্রক্রিয়া কার্যত এগোয়নি। সিবিআই ৭৬টি মামলা হাতে নিলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ৪টি মামলায় চার্জশিট দেয়, এবং সেই মামলাগুলিতে ইতিমধ্যেই জামিন পেয়েছেন সেন। কিন্তু রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা ৩০৮টি মামলাই এখন তাঁর মুক্তির পথে প্রধান বাধা। বর্তমানে বারাসাত থানার মাত্র ২টি মামলার জেরেই তিনি জেলে রয়েছেন।

রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এদিন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, ২০১৪ সালে চার্জশিট জমা দেওয়ার পরও কেন ট্রায়াল শুরু করা যায়নি। আদালত স্পষ্ট জানায়, এভাবে অনির্দিষ্টকাল কাউকে বন্দি করে রাখা যায় না। এমনকি একটি মামলার নথি হারিয়ে যাওয়া এবং বহু বছর পরে উদ্ধার হওয়ার ঘটনাতেও বিস্ময় প্রকাশ করা হয়। আদালতের মতে, অভিযুক্ত জামিন পেলে আমানতকারীদের টাকা ফেরতের প্রক্রিয়াও দ্রুত এগোতে পারে।

একইসঙ্গে সিবিআইকেও রেয়াত করেনি আদালত। বিচারপতির সোজাসাপ্টা প্রশ্ন, শুধু জামিন পেলেই কি দায় শেষ? ট্রায়াল শেষ করার দায়িত্ব কি নেই? সময়মতো বিচার সম্পন্ন না হওয়ার দায় যে কেন্দ্রীয় সংস্থাকেও নিতে হবে, তা স্পষ্ট করে দেয় বেঞ্চ।

তবে শুনানির সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক উঠে আসে সারদার সম্পত্তি বিক্রি নিয়ে। আদালতে পেশ করা রিপোর্টে দেখা যায়, সংস্থার ৯টি বাংলো ও একটি ফ্ল্যাট মাত্র ৫২ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এত কম দামে এত সম্পত্তি বিক্রি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত জানতে চায়, কারা এই বিক্রির সঙ্গে যুক্ত এবং কীভাবে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

Advertisement

অন্যদিকে, আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর জন্য গঠিত কমিটির কাজের গতিতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত। প্রায় ২০ হাজার আবেদনের মধ্যে মাত্র ৫০০টি নিষ্পত্তি হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে।

আগামী ২৩ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। ওইদিন সারদা ও তালুকদার কমিটিকে সম্পত্তির খতিয়ান, তোলা অর্থের হিসেব এবং আমানতকারীদের পাওনার বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে। সব মিলিয়ে মামলার বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, দীর্ঘ কারাবাসের পর সুদীপ্ত সেনের মুক্তির সম্ভাবনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement