
বঙ্গ রাজনীতিতে কার্যত এক অধ্য়ায়ের পরিসমাপ্তি। রবিবার মধ্য়রাতে প্রয়াত হয়েছেন রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বর্ষীয়ান নেতা। নিজের রাজনৈতিক জীবনে একাধিক রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করেছেন তিনি। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসেই তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার সর্বোচ্চ শিখর স্পর্শ করে। মৃত্য়ুকালেও তিনি ছিলেন তৃণমূল নেতা, কিন্তু কৃষ্ণনগর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক। ঘাসফুল থেকে পদ্ম শিবিরে যাওয়ার পর ২০২১ সালে তিনি বিজেপির টিকিটে কৃষ্ণনগর উত্তরে জয়ী হন। তবে এরপরেই দল বদল করে দ্বিতীয়বার তৃণমূলে ফেরেন মুকুল। তবে ধরে রেখেছিলেন বিধায়ক পদ।
এদিন বাবার মৃত্যুতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শুভ্রাংশু। বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, " বড্ড কষ্ট পাচ্ছিলেন। আমার বাবা আমার মায়ের কাছে চলে গেলেন।" পাশাপাশি তিনি জানান, "বাবার মৃত্য়ুর খবর জানানোর পর অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় নিজে ফোন করেছিলেন। তিনি সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। কর্মীরা খোঁজ নিচ্ছেন। দলের অনেক সিনিয়র নেতা ফোন করেছেন।"
শুভ্রাংশুর দাবি, "তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে নিয়মিত ভাবে বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ফোন করা হত। তাঁরা খোঁজখবর রাখতেন। অন্য দল থেকে আমাকে আজ পর্যন্ত কেউ ফোন করেনি। সৌমিত্র খাঁ, প্রথম দিকে কয়েকবার এসে খোঁজ নিয়ে গিয়েছেন। বিজেপির তরফে কেউ এখনও যোগাযোগ করেনি।"
অন্যদিকে, মুকুল রায়ের মৃত্য়ুর পর টুইট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তিনি লিখেছেন, "প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী মুকুল রায় জি'র প্রয়াণে শোকাহত। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সমাজসেবামূলক প্রচেষ্টা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জানাই।"
মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ও তাঁর এক সময়কার সহযোদ্ধার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন। তিনি টুইটে লেখেন, "মুকুল রায়ের সহসা প্রয়াণের সংবাদে বিচলিত ও মর্মাহত বোধ করছি। তিনি আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন, বহু রাজনৈতিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর বিদায়ের খবর আমাকে বেদনাহত করেছে।"
মমতা আরও বলেন, "প্রয়াত মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা-লগ্ন থেকে দলের জন্য প্রাণপাত করেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছিলেন, দলের সর্বস্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল। পরে তিনি ভিন্ন পথে যান, আবার ফিরেও আসেন। বাংলার রাজনীতিতে তাঁর অবদান এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কথা ভোলার নয়। দলমত নির্বিশেষে তাঁর অভাব অনুভব করবে রাজনৈতিক মহল।"
অন্য়দিকে, এই দুঃসময়ে শুভ্রাংশুকেও পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী। শুভ্রাংশুর উদ্দেশে তিনি লেখেন, "মন শক্ত করো। এই সংকটে আমরা তোমার সঙ্গে আছি।"