Advertisement

'মৌলবাদীদের শক্তি কে বাড়িয়েছে?' জাভেদ আখতার ইস্যুতে bangla.aajtak.in-এ মুখ খুললেন তসলিমা

১ সেপ্টেম্বর কবি সম্মেলনে বিখ্যাত কবি, চলচ্চিত্র লেখক এবং গীতিকার জাভেদ আখতারকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ উর্দু অ্যাকাডেমি। আর তাতেই প্রবল আপত্তি জানিয়ে চিঠি লিখেছে দুটি ইসলামি সংগঠন। চিঠিতে লেখিকা তসলিমা নাসরিনের উদাহরণও টানা হয়েছে।

'মৌলবাদীদের শক্তি কে বাড়িয়েছে?' জাভেদ আখতার ইস্যুতে bangla.aajtak.in-এ মুখ খুললেন তসলিমা'মৌলবাদীদের শক্তি কে বাড়িয়েছে?' জাভেদ আখতার ইস্যুতে bangla.aajtak.in-এ মুখ খুললেন তসলিমা
সঞ্জয় পাত্র
  • কলকাতা,
  • 29 Aug 2025,
  • अपडेटेड 1:09 PM IST
  • জাভেদ আখতারকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ উর্দু অ্যাকাডেমি
  • আর তাতেই প্রবল আপত্তি জানিয়ে চিঠি লিখেছে দুটি ইসলামি সংগঠন

১ সেপ্টেম্বর কবি সম্মেলনে বিখ্যাত কবি, চলচ্চিত্র লেখক এবং গীতিকার জাভেদ আখতারকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ উর্দু অ্যাকাডেমি। আর তাতেই প্রবল আপত্তি জানিয়ে চিঠি লিখেছে দুটি ইসলামি সংগঠন। চিঠিতে লেখিকা তসলিমা নাসরিনের উদাহরণও টানা হয়েছে। এনিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তসলিমাও। তিনি আবারও মৌলবাদী শক্তিকে রোখার কথা জানিয়েছেন। এছাড়াও, মৌলবাদী শক্তিকে রাজনীতির সমর্থনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গ উর্দু অ্যাকাডেমি আসন্ন মুশায়রায় (উর্দু কবি সম্মেলন) প্রখ্যাত উর্দু কবি, গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতারকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কমিটির তরফে। জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দের কলকাতা শাখা এই সিদ্ধান্তের কড়া আপত্তি জানিয়েছে। তারা অ্যাকাডেমিকে লেখা এক চিঠিতে জানিয়েছে যে আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করা উচিত। কারণ জাভেদ আখতার বারবার ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। এতে বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিনের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে এবং বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে লেখা হয়েছে, 'জাভেদ আখতার এমন একজন ব্যক্তি যিনি ধর্ম ও আল্লার বিরুদ্ধে কথা বলেন। উর্দু ভাষার কোনও মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে এমন ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো ঠিক নয়। উর্দু জগতে অনেক ভাল কবি, লেখক এবং সাংবাদিক আছেন যাদের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে। কিন্তু তা না করে জাভেদ আখতারের মতো একজন কবিকে, যিনি মুসলিম ধর্ম ও আল্লা বিরোধী কথাবার্তা বলে থাকেন, তাঁকে ডেকে আনতে চাওয়া উচিত কাজ হয়নি।'

২৫ অগাস্ট পাঠানো চিঠিতে জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দের পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ উর্দু অ্যাকাডেমি যেন অন্য কোনও সক্ষম এবং সম্মানিত ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানায়, তাদের ধর্ম নির্বিশেষে, যদি তিনি বিশ্বাস এবং আল্লার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকেন। জমিয়তে মনে করিয়ে দিয়েছে যে তারা এর আগে তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিল। চিঠিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, 'যদি আমাদের জনগণের অনুরোধে কর্ণপাত না করা হয়, তাহলে আমরা গণতন্ত্রে প্রচলিত অন্য পদ্ধতি গ্রহণ করতে বাধ্য হব।' তসলিমা নাসরিনের প্রসঙ্গ তুলে চিঠিতে বলা হয়েছে, এর আগে জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দ নবীর শিক্ষার অবমাননাকারী তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল ও তাঁকে বাংলা ছেড়ে যেতে বাধ্য করেছিল।

Advertisement

আরও পড়ুন

জমিয়তে উলেমা-ই-হিন্দের পর কলকাতা-ভিত্তিক আরেকটি ইসলামিক দাতব্য ট্রাস্ট ওয়াহিয়াহিন ফাউন্ডেশনও আখতারকে আমন্ত্রণ জানানোর পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। তারা এক ধাপ এগিয়ে জাভেদ আখতারকে ধর্ম নিয়ে বিতর্কে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

এনিয়ে তসলিমা নাসরিন বলেছেন, তারা বলেছে আমি যেহেতু ইসলামের সমালোচনা করেছি, তাই তারা বিক্ষোভ দেখিয়েছে, আমাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বের করতে সমর্থ হয়েছে। যেহেতু তারা আমাকে বের করতে পেরেছে ২০০৭ সালে। ওরা তো আর বের করেনি, ওদের খুশি করতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ২০০৭ সালে আমাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বের করে দিয়েছেন। আমি আর কখনওই পশ্চিমবঙ্গে ফিরতে পারি না। এটা তাদের সাকসেস স্টোরি। সুতরাং তারা বলছে যে জাভেদ আখতার যেহেতু ইসলামের সমালোচনা করেন, তাঁকেও তসলিমার মতো অবস্থা করবে। এদের শক্তি কে বাড়িয়েছে? রাজনীতিবিদ, শাসকরা এই মৌলবাদী অপশক্তিকে বেশি শক্তিমান করছে। কারণ তারা যা চায়, বাক স্বাধীনতা বিরোধী, নারী বিরোধী, যে আবদারই করে, সে আবদার মেটানো হয়। না হলে তারা জাভেদ আখতারের বিরুদ্ধে এই অবস্থান নিতে সাহস পেত না। ভয় পেত। এটাও দেখাতে পারত না যে দেখো আমরা কত শক্তিশালী, আমরা তসলিমাকে তাড়িয়েছি, সুতরাং জাভেদ আখতারও ভয় পেয়ে যাতে না আসে। কখনই কোনও রাজনীতিবিদের, কোনও শাসকের মৌলবাদী অপশক্তিকে শক্তিমান করা, তোষণ করা উচিত নয়। যদি, করে, তাহলে তা চলতেই থাকে। যারাই ইসলামের সমালোচনা করবেন সমাজের উন্নতির জন্য তাদের এরকম করা হয়। সমাজকে পিছিয়ে রাখতে চাওয়া মৌলবাদী শক্তিদের কোনওভাবেই সমর্থন করা উচিত নয়। না হলে তারা চিরকাল বাক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে হিংসা করে যাবে। হিংসার বিরুদ্ধে সরকারকে দাঁড়াতেই হবে।'

Read more!
Advertisement
Advertisement