
ধর্মতলার শতাব্দীপ্রাচীন ‘এল-২০’ বাসস্ট্যান্ড অবশেষে সরে গেল। মেট্রো রেলের কাজের জন্য এই ঐতিহ্যবাহী বাসস্ট্যান্ডটি স্থানান্তর করা হয়েছে। ফলে যাত্রীরা আর পুরনো এল-২০ স্ট্যান্ড থেকে বাস ধরতে পারবেন না; তাঁদের যেতে হবে উল্টো দিকের ‘ধর্মতলা সরকারি বাসস্ট্যান্ডে’, যেখানে তৈরি হয়েছে নতুন পরিকাঠামো।
এসবিএসটিসি ও এনবিএসটিসি মিলিয়ে প্রায় ২০০টি বাস আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই নতুন স্ট্যান্ড থেকে ছাড়বে। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন এবং জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো প্রকল্পের কাজের জন্যই এই স্থানান্তর।
নতুন বাসস্ট্যান্ডটি আধুনিক সুবিধায় সজ্জিত। প্রায় চার হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে তৈরি এই স্ট্যান্ডে রয়েছে ওয়েটিং রুম, ফুড কোর্ট, শৌচাগার, শেড এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত টিকিট কাউন্টার। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধান মার্কেট ও পুরনো এল-২০ স্ট্যান্ডের এলাকায় জোরকদমে মেট্রোর কাজ চলবে। এই অংশে নিউ গড়িয়া-দক্ষিণেশ্বর, হাওড়া ময়দান-সেক্টর ফাইভ এবং জোকা-এসপ্ল্যানেড, এই তিনটি মেট্রো করিডর মিশে যাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখানে একটি তিনতলা স্টেশন তৈরি হবে, যাতে যাত্রীরা সহজেই এক মেট্রো থেকে অন্য মেট্রোয় যেতে পারেন।
তবে এই এলাকা থেকে ছাড়া বেসরকারি বাস কবে সরানো হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। শুধু বাসস্ট্যান্ড নয়, স্থানান্তর করা হবে বিধান মার্কেটও। রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ ও সিধু কানু ডহর মাঝামাঝি এলাকায় তৈরি হচ্ছে নতুন দোতলা মার্কেট কমপ্লেক্স। সেখানে দোকানঘর ছাড়াও থাকবে ফুড কোর্ট, পার্কিং লট এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা।
নতুন বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের সমস্ত ব্যয়ভার বহন করেছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। গত বছরের ডিসেম্বরেই স্থানান্তরের কথা থাকলেও পুলিশ পরিবহণ দফতরকে অতিরিক্ত একটি জরুরি নির্গমন পথ (এমার্জেন্সি এক্সিট) রাখার পরামর্শ দেয়। কারণ রানি রাসমণি রোডে প্রায়ই সভা-মিছিল হয়, ফলে রাস্তা অবরুদ্ধ হলে বাসের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। সব পক্ষের অনুমোদনের পর সেই এমার্জেন্সি এক্সিট তৈরি হয় এবং তারপরই চালু হয় নতুন বাসস্ট্যান্ড।