
ইমাম-মোয়াজ্জেমদের ভাতা বাড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সোমবার নেতাজি ইন্দোরে ইমাম-মোয়াজ্জেমদের সভায় এই ঘোষণা করলেন। সেই সঙ্গে ভাতার পরিমাণ বাড়ল পুরোহিতদেরও। মমতা জানান, 'আমার ক্ষুদ্র সামর্থ্যের মধ্যে ইমাম, মোয়াজ্জেম ও পুরোহিতদের জন্য ভাতা ৫০০ টাকা বাড়ালাম। আর ইমাম-মোয়াজ্জেম বা সংখ্যালঘুরা ঋণ নিয়ে ব্যবসা করতে চাইলে ৫ লক্ষ টাকার গ্যারান্টার হবে সরকার। সরকারই ঋণ জোগাড় করে দেবে। মেয়েরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবে। ঘর আমরা করে দেব। যদিও বন্ধ করে দিয়েছে এখন। আমরা আবার করে দেব।'
ভাতা বাড়ানো ঘোষণার পরই বিজেপির থেকে সংখ্যালঘুদের সতর্ক করে দিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন,'আমার একটাই খিদে, বিজেপি হঠাও ইন্ডিয়া বাঁচাও। যে দুশমনরা বিজেপির থেকে টাকা নিয়েছে তাদের বলবেন জবাব দাও। বাংলায় আমরা দাঙ্গা করতে দেব না। সম্প্রীতি রক্ষা করব। আমার দল, আমি যতদিন থাকব, হিন্দু আমার একটা হাত হলে মুসলিম আর একটা হাত। আমি সবার জন্য ছিলাম, সবার সঙ্গে থাকব। আমি মন্দিরেও যাই, মসজিদেও যাই। কারও কথা শুনবেন না, একটাই কথা শুনবেন, বিজেপি হঠাও দেশ, ধর্ম ও প্রাণ বাঁচাও।'
এ দিন নাম করে আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকিকেও তোপ দেগেছেন মমতা। তিনি বলেন,'সংখ্যালঘুদের ভাগাভাগির জন্য কাউকে কাউকে টাকা দিচ্ছে। জগাই, মাধাই ও জগাই। তার সঙ্গে জুটেছে আর এক নেতা। তাকে টাকা লাগিয়ে বড় নেতা করবেন। আপনাদের ঘরের ছেলেমেয়ে সবাই নয়, ফুরফুরা শরিফকে সম্মান করি, আমরা চাই না, তারা রাজনীতিতে প্রবেশ করুক। যেমন চাই না, বেলুড়মঠ রাজনীতি প্রবেশ করুক। রাজনীতিতে ধর্মস্থানের নাম ব্যবহার করা উচিত নয়। আমাদের ধর্ম আমাদের মনে, প্রাণে।'
সেই সঙ্গে মমতা মনে করিয়ে দিয়েছেন, তিনি বরাবর সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর কথায়,'যখনই আপনাদের উপর আঘাত আসে ইস্যুটা প্রথম আমরাই ধরি। শেষপর্যন্ত লড়াই করি। আমি এনআরসি করতে দিইনি। অসমে যখন সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দিয়েছিল, আমি একটা প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিলাম। তাদের ঢুকতে দেয়নি। এখানে আন্দোলন করছিলাম, অসম সরকার ওখানে এফআইআর করেছে। আমি বলেছি, বেশ করেছি, দরকার হলে আবার করব। অন্যদের সঙ্গে আমাদের একটাই তফাৎ, আমরা যা বলি তাই করি। এজেন্সির ভয়ে মাথানত করি না। সারদাকে এনেছিল সিপিএম। একটাও কেস দেখতে পাচ্ছেন ? সমঝোতা করে রেখেছে ওরা। ওরা জানে তৃণমূল একমাত্র দল যারা ওদের কেয়ার করে না, রেয়াত করে না।'
মমতা যোগ করেন,'হরিয়ানাতেও করল কদিন আগে। বাংলার মুসলিম-ভাইবোনেরা ফিরে এসেছে। আমরা আমাদের আমলে কী করেছে নতুন করে বলার নেই। সংখ্যালঘু স্কলারশিপে বাংলা একনম্বর। ৬৩ লক্ষ স্কলারশিপ দিয়েছি। যার আর্থিকমূল্য ৭ হাজার ১৪২ কোটি টাকা। ওবিসিদের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। কেন জানেন, ৯৭ শতাংশ মুসলিম ওবিসি বলে।'