
যতদিন যাচ্ছে, ততই বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম। মাছ, মাংস কিনতে গিয়ে অনেক পরিবারকেই হিসাব করে চলতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কম খরচে পুষ্টিকর খাবার কী হতে পারে? পুষ্টিবিদদের মতে, সয়াবিন এবং ডিম একসঙ্গে রান্না করলেই তা সস্তায় পুষ্টির উৎস হতে পারে।
সয়াবিনে প্রচুর প্রোটিন থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এটি মাংসের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। অন্য দিকে, ডিমকে বলা হয় সম্পূর্ণ পুষ্টির খাবার। এই দুই উপাদান একসঙ্গে রান্না করলে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পাওয়া যায়।
এই রান্না করতে বেশি খরচও হয় না। ১০ টাকার সয়াবিন এবং ৬-৭ টাকার একটি ডিম দিয়েই দুই-তিন জনের জন্য তরকারি তৈরি করা সম্ভব। ফলে কম আয়ের পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত উপযোগী খাবার।
রান্নার পদ্ধতিও সহজ। প্রথমে সয়াবিন গরম জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে ১০ মিনিট। এতে সয়াবিন নরম হয়ে যায়। অন্য দিকে, ডিম সেদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। এরপর কড়াইয়ে সামান্য তেল গরম করে পেঁয়াজ, আলু এবং টমেটো ভেজে নিতে হবে।
এর মধ্যে হলুদ, লঙ্কা গুঁড়ো, নুন এবং সামান্য জিরে গুঁড়ো দিতে হবে। তারপর সয়াবিন এবং ডিম দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়তে হবে। শেষে জল দিয়ে ১০ মিনিট ফুটতে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে সুস্বাদু তরকারি।
এই খাবারের আরও একটি বড় সুবিধা হল, এটি ভাত বা রুটির সঙ্গে খাওয়া যায়। ফলে আলাদা করে অন্য কিছু রান্নার দরকার হয় না।
চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত সয়াবিন খেলে শরীরের শক্তি বাড়ে। বিশেষ করে যারা কঠোর পরিশ্রমের কাজ করেন, তাঁদের জন্য এটি খুবই উপকারী খাবার। ডিম শরীরের পেশি শক্তিশালী করে এবং ক্লান্তি কমায়।
অনেক পরিবার এখন সপ্তাহে অন্তত দুই-তিন দিন এই রান্না করছেন। এতে খরচ কমছে, আবার পুষ্টিও বজায় থাকছে।
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কম খরচে পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সঠিক পরিকল্পনা করলে কম টাকাতেও পরিবারের সকলের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করা সম্ভব; সয়াবিন-ডিমের তরকারি তারই একটি সহজ উদাহরণ।