
(লিখছেন বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ মীনাক্ষী মজুমদার)
বিরিয়ানির প্রতি বাঙালির লোভ প্রশ্নাতীত। যদিও ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল বা হাই ব্লাড প্রেশার হলেই অনেকে বিরিয়ানির থেকে দূরত্ব তৈরি করে নেন। তাঁরা এই খাবার ছুঁয়েও দেখেন না। যদিও ভাল খবর হল, কোনও ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল বা প্রেশার রোগীর রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলে অনায়াসে খাওয়া যায় বিরিয়ানি। যদিও সেক্ষেত্রে দোকানের নয়। বাড়িতেই চিকেন বিরিয়ানি বানিয়ে খেতে হবে। তাতেই সমস্যার ফাঁদ এড়াতে পারবেন।
তাই আর দেরি না করে বাড়িতে টেস্টি চিকেন বিরিয়ানি বানানোর সহজ রেসিপি জেনে নিন। আশা করছি, এই নিয়ম মেনে চিকেন বিরিয়ানি বানালে বিপদ হবে না।
কী কী লাগবে?
১ কেজি চিকেন, চাল ১ থেকে ২ কেজি, আদা-রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ, টক দই ৩ টেবিল চামচ, ধনে জিরে গুঁড়ো, মরিচ গুঁড়ো, পেঁয়াজ কুচি দেড় কাপ, এলাচ ৫টি এবং তেজপাতা ২টি, জায়ফল এবং জয়ত্রী বাটা ১ চামচ, দারচিনি ২ টুকরো, লবঙ্গ ৫টি, রাইস ব্র্যান তেল প্রয়োজন মতো।
কীভাবে বানাবেন?
প্রথমেই মাংস ভাল করে ধুয়ে নিয়ে জল ঝরিয়ে নিন। এটাই হল প্রথম স্টেপ। এরপর জায়ফল, জয়ত্রী, আদা-রসুন বাটা, মরিচ গুঁড়ো, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, ধনে-জিরে গুঁড়ো, টক দই, কাঁচা মরিচ এবং নুন দিয়ে মাখিয়ে নিন। এভাবে ম্যারিনেট করে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা রেখে দিন।
এরপর কড়াইতে ১/৪ কাপ তেল গরম করুন। তাতে ভেজে নিন পেঁয়াজ কুচি। পেঁয়াজ লাল হয়ে এলে তাতে মাংস দিয়ে দিতে হবে। হালকা করে কষে নিন। এমন পরিস্থিতিতে তেল ভেসে উঠলেই কিছুটা গরম জল দিন। সেই জল ফুটে উঠলে মাঝারি আঁচে পাত্র ঢেকে মাংস সিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
ও দিকে আপনাকে চাল ধুয়ে নিতে হবে। বাঁশমতি চাল হলে সবথেকে ভাল হয়। তারপর চাল সিদ্ধ করে নিন। জল ঝরিয়ে নিতে হবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন।
এবার কড়াইতে তেল গরম করে অর্ধেক কাপ পেঁয়াজ কুচি ভেজে নিন। পেঁয়াজ নরম হয়ে গেলে জল ঝরানো চাল দিয়ে দিন তাতে। চাল কয়েক মিনিট ভেজে ফুটন্ত গরম জল দিয়ে দিন। যতটা চাল দেবেন তার থেকে দ্বিগুণ পরিমাণ জল দিতে হবে।
জল সামান্য ফুটে উঠলে এতে দিয়ে দিন মাংস। তারপর স্বাদমতো নুন আর আস্ত কাঁচা মরিচ দিয়ে দিন। ভালো করে নেড়ে নিতে হবে। তারপর পাত্রটি ভাল করে ঢেকে রাখুন। চালের গায়ে জল লেগে থাকা আবস্থায় অল্প আঁচে দম দিয়ে নিন।
ব্যাস, তৈরি হয়ে গেল একটা সেরার সেরা বিরিয়ানি। এই বিরিয়ানি খেলে সুগার, প্রেশার এবং কোলেস্টেরলে তেমন একটা বাড়ার আশঙ্কা থাকবে না। সুতরাং চিন্তার কিছু নেই। তবে এই বিরিয়ানি মাসে একবার একবেলা খেতে হবে। নইলে বিপদ বাড়বে।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।