
Health Benefits of Chicken: চিকেন খাওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যেই দ্বিধা থাকে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক উপায়ে রান্না করলে এই খাদ্যই হতে পারে শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বিশেষ করে কম তেলে রান্না করা চিকেন শরীরকে দেয় প্রয়োজনীয় প্রোটিন, শক্তি এবং নানা পুষ্টি উপাদান। তাই নিয়ম মেনে রান্না করলেই ‘চিকেন’ হতে পারে স্বাস্থ্যকর ডায়েটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
চিকেন মূলত উচ্চ প্রোটিনের উৎস। শরীরের পেশি গঠন, কোষ মেরামত এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রোটিন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। চিকেনে থাকা লিন প্রোটিন সহজেই হজম হয় এবং শরীরকে দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগায়। তবে এই বেনেফিট পেতে গেলে রান্নার পদ্ধতির দিকে নজর দেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত তেল, মশলা বা ভাজাভুজি করলে এই উপকার অনেকটাই কমে যায়।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, চিকেন রান্নার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হল গ্রিল, সেদ্ধ বা কম তেলে ঝোল করে খাওয়া। এতে অতিরিক্ত ফ্যাট শরীরে প্রবেশ করে না। অন্যদিকে, ডিপ ফ্রাই বা বেশি তেলে রান্না করা চিকেন শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
চিকেনে ভিটামিন বি৬, বি১২, নিয়াসিন, ফসফরাস এবং সেলেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে। এগুলি শরীরের মেটাবলিজম ঠিক রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বিশেষ করে যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তাদের জন্য চিকেন একটি আদর্শ খাদ্য।
তবে সব বয়সের মানুষের জন্য একই পরিমাণ চিকেন উপযুক্ত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে সপ্তাহে ২-৩ দিন পরিমিত পরিমাণে চিকেন খাওয়াই যথেষ্ট। অতিরিক্ত খেলে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে পারে। আবার যাদের কিডনি বা লিভারের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকেন খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চিকেন খাওয়ার সময় আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। ভালোভাবে ধুয়ে, সঠিক তাপমাত্রায় রান্না না করলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই আধা সেদ্ধ বা কাঁচা চিকেন খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।
বর্তমান সময়ে ফিটনেস সচেতন মানুষের মধ্যে চিকেনের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে ‘লো-অয়েল’ বা কম তেলে রান্না করা চিকেন এখন অনেকের ডায়েট চার্টে জায়গা করে নিয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, শুধু চিকেন খেলেই হবে না। এর সঙ্গে শাকসবজি, ডাল এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারও সমানভাবে জরুরি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, চিকেন খাওয়া অবশ্যই উপকারী। তবে শর্ত একটাই; রান্না হতে হবে কম তেলে এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে। তবেই এই জনপ্রিয় খাবারটি শরীরের জন্য সত্যিই উপকারি হয়ে উঠবে।