
ড্রাই ফ্রুটস শরীরের জন্য খুবই উপকারী। যার মধ্যে আমন্ডের জাদুকরী গুণ রয়েছে। এই বাদাম ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার, স্বাস্থ্যকর চর্বি সহ অনেক পুষ্টির একটি ভাল উৎস। এতে মজুত ভিটামিন এ, সি এবং ই রয়েছে যা ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয়। অনিয়মিত জীবনযাত্রার মাঝেও শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে ড্রাই ফ্রুটসের ওপর নির্ভর করে। যার মধ্যে আমন্ড হল সবচেয়ে জনপ্রিয়।
এই বাদাম শুধুমাত্র স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করার জন্যই পরিচিত নয়। সেই সঙ্গে এটি প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ই এবং ম্যাগনেসিয়ামের একটি চমৎকার উৎসও বটে। তবে একটি সাধারণ প্রশ্ন প্রায়ই অনেকের মনে জাগে, দিনে ঠিক কটা আমন্ড খাওয়া উচিত? ৪০ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে এই প্রশ্নটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। কারণ এই বয়সে শরীরের বিপাকক্রিয়া এবং শারীরিক তৎপরতা বা কার্যকলাপের মাত্রা অনেকটাই বেশি থাকে।
নারী ও পুরুষের জন্য সঠিক পরিমাণ কত হওয়া উচিত?
পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির প্রতিদিন প্রায় ২৮ থেকে ৩০ গ্রাম আমন্ড খাওয়া উচিত। সংখ্যার হিসাবে বলতে গেলে, ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত পুরুষদের জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ২২টি আমন্ড খাওয়াই যথেষ্ট।
নারীদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ১৫ থেকে ১৮টির মধ্যে হওয়া উচিত। তবে, এই পরিমাণটি আপনার শারীরিক পরিশ্রম বা কার্যকলাপের ওপরও নির্ভর করে। আপনি যদি জিমে যান কিংবা ভারী কায়িক পরিশ্রমের কাজ করেন, তবে এই সংখ্যাটি সামান্য বাড়িয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
ভিজিয়ে রাখা আমন্ড কেন বেশি উপকারী?
আমন্ড সরাসরি খাওয়ার চেয়ে ভিজিয়ে খাওয়াটাই বেশি শ্রেয়। আমন্ডের খোসায় 'ট্যানিন' নামক একটি উপাদান থাকে, যা শরীরে পুষ্টি শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। আমন্ড সারারাত ভিজিয়ে রাখলে এর খোসা সহজেই ছাড়িয়ে ফেলা যায় এবং এর ভেতরের এনজাইমগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে, যার ফলে এটি হজম করা অনেক সহজ হয়ে যায়।
৪০ বছর বয়স পর্যন্ত একটি সুস্থ পরিপাকতন্ত্র বা হজমশক্তি বজায় রাখার জন্য ভিজিয়ে রাখা কাঠবাদাম খাওয়া একটি বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপ।
হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্কের জন্য
আমন্ডে বিদ্যমান 'মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট' বা এক-অসম্পৃক্ত চর্বি শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে এবং উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এছাড়া, আমন্ডে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে, যার ফলে মুখ ও শরীরে বয়সের ছাপ বা বার্ধক্যের দৃশ্যমান লক্ষণগুলো দেরিতে ফুটে ওঠে।
প্রতিদিন সঠিক পরিমাণে গ্রহণ করা হলে এটি আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটিও বৃদ্ধি করে। আমন্ডের সর্বোচ্চ সুফল পেতে চাইলে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এটি খাওয়ার চেষ্টা করুন।
সতর্কতা
আমন্ড নিঃসন্দেহে একটি স্বাস্থ্যকর খাবার; কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আপনি যখন-তখন মুঠো মুঠো খেয়ে ফেলবেন। এতে ক্যালোরির পরিমাণ বেশ বেশি থাকে, তাই অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া, অতিরিক্ত আমন্ড খাওয়ার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। প্রয়োজনে, পরামর্শ নিন পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের।