
ভারতীয় পরিবারগুলোর দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে ভাত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেকেরই ভাত ছাড়া পেট ভরে না বা তৃপ্তি হয় না। এদিকে মাঝে মাঝে প্রেসার কুকারে রান্না করা ভাত ঠিকঠাক ঝরঝরে হয় না। বরং তা অতিরিক্ত সেদ্ধ হয়ে যায়, আঠালো হয়ে যায় কিংবা ভাতের দানাগুলো ভেঙে যায়। এরকম ভাতের স্বাদ অনেকটা কম হয়। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে যে, ঠিক কী ভুল হচ্ছে যার কারণে ভাত আঠালো হচ্ছে? তবে প্রেসার কুকারে রান্না করেও ভাত বেশ ঝরঝরে ও সুন্দর থাকে। জানুন, কীভাবে প্রেসার কুকারে একদম ঝরঝরে ও নিখুঁত ভাত রান্না করা যায়।
সঠিক চাল বেছে নিন
সঠিক জাতের চাল নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য মাঝারি বা লম্বা দানার চালই সবচেয়ে উপযুক্ত। আপনি যদি বাসমতি চাল রান্না করতে চান, তবে পুরনো বা 'এজেড' বাসমতি চাল বেছে নিন; কারণ এতে স্টার্চ বা মাড়ের পরিমাণ কম থাকে এবং রান্নার পর ভাতের দানাগুলো আলাদা ও ঝরঝরে থাকে।
চাল ভাল করে ধুয়ে নিন
রান্না শুরু করার আগে চাল অন্তত ২-৩ বার ধুয়ে নেওয়াটা জরুরি। এতে চালের অতিরিক্ত স্টার্চ বা মাড় দূর হয়ে যায়, ফলে ভাত আঠালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। চাল ততক্ষণ পর্যন্ত ধুতে থাকুন, যতক্ষণ না ধোয়ার পানি একদম স্বচ্ছ বা পরিষ্কার হয়ে যায়।
১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন
আপনার হাতে যদি সময় থাকে, তবে রান্নার আগে চালগুলো ১৫-২০ মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রাখুন। এতে চালগুলো সমানভাবে সেদ্ধ হয় এবং ভাতের দানাগুলো ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না। বাসমতি চালের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি বিশেষভাবে উপকারী।
জল ও চালের অনুপাত
প্রেসার কুকারে ভাত রান্নার সময় জল ও চালের সঠিক অনুপাত বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ চালের ক্ষেত্রে, চালের পরিমাণের দ্বিগুণ জল দিতে হয় (যেমন: ১ কাপ চালের জন্য ২ কাপ জল)। বাসমতি চালের ক্ষেত্রে, প্রতি ১ কাপ চালে ১.৫ থেকে ১.৭৫ কাপ জলই যথেষ্ট। অতিরিক্ত জল দিলে ভাত অতিরিক্ত সেদ্ধ হয়ে যেতে পারে, আবার জলের পরিমাণ খুব কম হলে ভাত ঠিক মতো সেদ্ধ নাও হতে পারে।
চাল দেওয়ার সঠিক নিয়ম হল
প্রথমে ধুয়ে রাখা চাল কুকারের মধ্যে দিন, এরপর তাতে সঠিক পরিমাণে জল যোগ করুন। আপনি চাইলে এতে সামান্য তেল কিংবা ১/২ চা চামচ ঘি মিশিয়ে দিতে পারেন। এতে ভাত একে অপরের সঙ্গে লেগে যায় না এবং ভাতের স্বাদও বেড়ে যায়। ভাতের দানাগুলো ঝরঝরে ও আলাদা রাখার জন্য এতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে দেওয়াও বেশ উপকারী।
কুকারের হুইসেলের শব্দের দিকে খেয়াল রাখুন। সাধারণ চালের ক্ষেত্রে এক থেকে দুটি সিটিই যথেষ্ট। অন্যদিকে, বাসমতি চাল সাধারণত মাত্র একটি সিটিতেই সেদ্ধ হয়ে যায়। সিটি পড়ার পর গ্যাসের আঁচ নিভিয়ে দিন এবং কুকারটিকে নিজে থেকেই ঠান্ডা হতে দিন।
কুকারের ঢাকনা খোলার পরপরই চাল নাড়বেন না। চালটিকে ৫ মিনিট স্থির হয়ে থাকতে দিন। এরপর, হাত দিয়ে কিংবা একটি কাঁটা চামচ দিয়ে আলতোভাবে নেড়ে দিন। এতে চাল ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে না এবং ভাত বেশ ঝরঝরে ও সুন্দর হবে।