
পৌষ মানেই বাঙালির রান্নাঘরে পাটিসাপটা তৈরি হবে। গুড়-নারকেলের পুর হোক বা ক্ষীরের, পাটিসাপটা ছাড়া শীতের আমেজ যেন অসম্পূর্ণ। তবে অনেকের বাড়িতেই একটা অভিযোগ শোনা যায়; পাটিসাপটা শক্ত হয়ে যাচ্ছে, ভাঁজ করতে গেলে ভেঙে যাচ্ছে, কিংবা স্বাদ ঠিক জমছে না। আসলে এই সমস্যার মূল কারণ রেসিপি নয়, বরং ব্যাটার গুলবার ভুল পদ্ধতি।
পাটিসাপটা নরম ও সুস্বাদু করতে গেলে প্রথমেই ব্যাটারের অনুপাত ঠিক রাখা জরুরি। সাধারণ ভাবে চালের গুঁড়ো এক কাপ, তার সঙ্গে আধ কাপ ময়দা এবং এক-চতুর্থাংশ কাপ সুজি ব্যবহার করলেই ব্যাটারের গঠন ঠিক থাকে। স্বাদ অনুযায়ী দুই থেকে তিন টেবিল চামচ চিনি এবং এক-চতুর্থাংশ চা চামচ নুন দিতে হয়। এরপর প্রয়োজন মতো জল বা দুধ; মোটামুটি দেড় কাপ ধরে নেওয়া যেতে পারে।
ব্যাটারের জন্য:
চালের গুঁড়ো: ১ কাপ
ময়দা: ১/২ কাপ
সুজি: ১/৪ কাপ
চিনি: ২-৩ টেবিল চামচ (স্বাদমতো)
নুন: ১/৪ চা চামচ
জল বা দুধ: ১.৫ কাপ (প্রয়োজনমতো)
সব উপকরণ একসঙ্গে মেশাতে গেলেই বিপত্তি। প্রথমে শুকনো উপকরণগুলো ভাল করে মিশিয়ে নিতে হয়। তারপর অল্প অল্প করে জল বা দুধ যোগ করে ব্যাটার গুলতে হয়। একসঙ্গে সব তরল ঢেলে দিলে দলা পাকানোর সম্ভাবনা থাকে। ব্যাটারের ঘনত্ব হবে এমন, যাতে খুন্তি থেকে সহজে পড়ে আসে। খুব ঘন হলে পাটিসাপটা মোটা হয়ে যাবে, আবার বেশি পাতলা হলে ছড়িয়ে পড়বে।
এখানেই শেষ নয়। পাটিসাপটা নরম হওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল ব্যাটারকে বিশ্রাম দেওয়া। ব্যাটার গুলে অন্তত কুড়ি থেকে তিরিশ মিনিট ঢেকে রাখতে হয়। এই সময়ের মধ্যে সুজি ফুলে ওঠে এবং চালের গুঁড়ো জল শুষে নেয়। ফলে ব্যাটার হয় মসৃণ, আর পাটিসাপটা ভাঙে না।
অনেকে শুধু জল ব্যবহার করেন। তবে জল আর দুধ অর্ধেক-অর্ধেক মেশালে স্বাদ আরও ভালো হয়। দুধ পাটিসাপটাকে একটু বেশি নরম করে এবং হালকা মিষ্টি গন্ধ এনে দেয়।
পাটিসাপটা বানানোর সময় তাওয়ার তাপমাত্রাও গুরুত্বপূর্ণ। খুব বেশি গরম তাওয়ায় ঢাললে ব্যাটার সঙ্গে সঙ্গে শুকিয়ে যায়। মাঝারি আঁচে হালকা তেল বা ঘি মেখে তাওয়া গরম করলেই যথেষ্ট। এক দিক সেট হলেই পুর দিয়ে সাবধানে গুটিয়ে নিতে হয়।
সব মিলিয়ে, পাটিসাপটা নরম আর টেস্টি করতে চাইলে ব্যাটারের হিসাব, গুলবার পদ্ধতি এবং বিশ্রামের সময়; এই তিনটি বিষয় ঠিক রাখলেই কাজ হয়ে যাবে। একটু ধৈর্য ধরলেই পৌষের পাটিসাপটা হবে একেবারে দোকানের মতো নরম আর মুখে দিলে গলে যাওয়ার মতো সুস্বাদু।