
ছানা থেকে তৈরি প্রচলিত দুগ্ধজাত খাদ্য হল পনির। সাধারণত ফুটন্ত দুধে লেবুর রস, ভিনেগার অথবা অম্লজাতীয় কোনও পদার্থ যোগ করে ছানা তৈরি করা হয় এবং সেই ছানা থেকে জল বের করে দিয়ে পনির প্রস্তুত করা হয়ে থাকে।
নিরামিষভোজীদের খাদ্যে পনিরকে প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়। গত কয়েক বছরে টোফুও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পনির এবং টোফু—উভয়ই দেখতে অনেকটা একই রকম এবং স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। অনেকেই এই দুটির মধ্যে পার্থক্য কী এবং স্বাস্থ্যের জন্য কোনটা বেশি উপকারী, তা বুঝতে পারেন না। কেউ কেউ পনিরকে সেরা ভাবেন, আবার কেউ কেউ টোফুকে 'সুপারফুড' হিসেবে গণ্য করেন। জেনে নিন, এই দুটির মধ্যে কোনটা বেশি ভাল এবং কেন।
গঠনগত পার্থক্য
পনির তৈরি হয় দুধ থেকে, অন্যদিকে টোফু তৈরি হয় সয়াবিন দুধ বা সয়া-মিল্ক থেকে। টোফু হল সম্পূর্ণ উদ্ভিদ-ভিত্তিক একটি পণ্য। পনির হল দুগ্ধজাত পণ্য। উভয়কেই প্রোটিন এবং ক্যালসিয়ামের ভাল উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
পুষ্টিগুণ
প্রথমে আসা যাক প্রোটিনের কথায়। ১০০ গ্রাম পনিরে প্রায় ১৮ থেকে ২৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে, টোফুতে পাওয়া যায় ৮ থেকে ১৩ গ্রাম প্রোটিন। এর অর্থ হল, প্রোটিনের পরিমাণের দিক থেকে পনির কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। টোফুতে চর্বির পরিমাণ কম থাকে এবং এতে প্রায় ৮০ থেকে ১৪০ ক্যালোরি থাকে। অন্যদিকে, পনিরে থাকে ২৫০ থেকে ৩০০ ক্যালোরি—যা টোফুর তুলনায় অনেকটাই বেশি। পনির বা কটেজ চিজ ক্যালসিয়ামের একটি ভাল উৎস এবং এটি হাড় মজবুত করতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, পনিরের তুলনায় টোফুতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কম থাকে, কারণ এটি সয়াবিন থেকে তৈরি।
কোনটা বেশি ভাল?
উভয়ই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি মূলত নির্ভর করে আপনার শারীরিক প্রয়োজন এবং খাদ্যাভ্যাসের ওপর। আপনি যদি ওজন কমাতে চান কিংবা কম ক্যালোরি গ্রহণ করতে চান, তবে টোফু আপনার জন্য একটি ভাল বিকল্প। তবে, আপনার যদি অধিক প্রোটিনের প্রয়োজন হয় এবং ওজন বৃদ্ধি নিয়ে আপনার কোনও দুশ্চিন্তা না থাকে, সেক্ষেত্রে পনিরই আপনার জন্য অধিকতর উপযুক্ত হতে পারে।
অনেকেই মনে করেন যে, তারা যদি 'ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট' (দুধে অ্যালার্জিযুক্ত) হন, তবে তারা পনির খেতে পারবেন না। কিন্তু সব ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়। পনির তৈরির প্রক্রিয়াটি কিছুটা ভিন্নধর্মী, যার ফলে এটি প্রায়শই বেশ সহজে হজমযোগ্য হয়ে থাকে।