
গরমের মরশুম মানেই বাজারের থলিতে কচি ঢ্যাঁড়শের আনাগোনা। কিন্তু সেই চচ্চড়ি বা একঘেয়ে ভাজা দেখলেই অনেক বাড়িতেই খুদেদের মুখ ভার শুরু হয়। পুষ্টিগুণে ঠাসা এই আনাজটিকে ব্রাত্য করে রাখা দায়, তাই শরীর ও জিভ, দুইয়ের যত্ন নিতেই এবার রান্নাঘরে আনুন নতুনত্বের ছোঁয়া।
সামান্য মশলার কারসাজি আর রান্নার কৌশলে সাধারণ ঢ্যাঁড়শই হয়ে উঠতে পারে রাজকীয় পদ। আজই চেখে দেখতে পারেন জিভে জল আনা ‘ঢ্যাঁড়শ দোপেঁয়াজা’। গরম রুটি বা পরোটার সঙ্গে এই পদটি শুধু মুখরোচকই নয়, বরং চৈত্রের দুপুরে তৃপ্তির আহার হিসেবেও অতুলনীয়।
রেসিপি
এই পদটি বানাতে লাগবে ৫০০ গ্রাম ঢ্যাঁড়শ, কুচনো ও ডুমো করে কাটা পেঁয়াজ ও টমেটো, আদা-রসুন বাটা, ফেটানো টক দই এবং সামান্য সর্ষের তেল। মশলার তালিকায় রাখুন গোটা জিরে, শুকনো লঙ্কা, হলুদ, কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো এবং ধনে-জিরে গুঁড়ো। স্বাদমতো নুন-চিনি তো থাকছেই, আর শেষে নামানোর আগে ধনেপাতা কুচি ও সামান্য পাতিলেবুর রস ছড়িয়ে দিলেই কেল্লাফতে। রান্নার শুরুতেই ঢ্যাঁড়শগুলো এক ইঞ্চি মাপে কেটে সর্ষের তেলে হালকা করে ভেজে তুলে রাখুন, খেয়াল রাখবেন যেন রঙ নষ্ট না হয় বা বেশি নেতিয়ে না যায়।
প্রস্তুত প্রণালী
প্রস্তুত প্রণালীও বেশ সহজ। কড়াইতে জিরে ও শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজকুচি ও আদা-রসুন বাটা দিয়ে ভালো করে কষাতে হবে। মশলা তেল ছাড়তে শুরু করলে তাতে টমেটোকুচি ও গুঁড়ো মশলা যোগ করুন। এরপর আঁচ কমিয়ে ফেটানো টক দই দিয়ে কষিয়ে ভাজা ঢ্যাঁড়শগুলো মিশিয়ে দিন। অন্য একটি প্যানে ডুমো করে কাটা পেঁয়াজ ও টমেটো হালকা ‘সতে’ করে মূল রান্নায় মিশিয়ে নিলেই তৈরি ‘ঢ্যাঁড়শ দোপেঁয়াজা’। চৈত্রের শুকনো দিনে এই স্বাদবদল কেবল পরিবারের বড়দের নয়, মন জয় করবে ছোটদেরও। সাধারণ উপকরণে অসাধারণ স্বাদের এই ম্যাজিক এখন গৃহিণীদের অন্যতম তুরুপের তাস।