
Hing Kochuri Recipe: বাঙালির ছুটির সকাল মানেই পাড়ার মোড়ের কচুরির দোকানে লম্বা লাইন। হিংয়ের সেই মনমাতানো গন্ধ আর ডালপুরির খাস্তা কামড় ছাড়া যেন রবিবারটা জমতেই চায় না। কিন্তু বাইরের অস্বাস্থ্যকর তেল আর ভিড় এড়িয়ে যদি বাড়িতেই বানানো যায় দোকানের মতো মুচমুচে হিংয়ের কচুরি? মা-ঠাকুমাদের আমল থেকে চলে আসা কিছু ঘরোয়া কৌশল আর সঠিক পরিমাপ জানলেই আপনিও হয়ে উঠতে পারেন আপনার হেঁশেলের ‘মাস্টারশেফ’। ময়দার ময়ান থেকে হিংয়ের পুর। সবকিছুর নিখুঁত মিশেলে তৈরি এই রাজকীয় স্বাদ আপনার সকালের ভোজকে করে তুলবে অনন্য।
ময়ান ও বিউলি ডালের পুর
আদর্শ হিংয়ের কচুরি তৈরির প্রথম শর্ত হলো ময়দার ময়ান। ২ কাপ ময়দায় ৩-৪ চামচ সাদা তেল বা ঘি দিয়ে এমনভাবে মেশাতে হবে যাতে মুঠো করলে ময়দা দলা পাকিয়ে যায়। সামান্য নুন, চিনি আর ইষদুষ্ণ জল দিয়ে মাখা সেই ডো অন্তত আধঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে কচুরি হবে দোকানের মতোই নরম।
অন্যদিকে, হিংয়ের আসল জাদু লুকিয়ে থাকে এর পুরে। হিং, আদা বাটা ও কাঁচা লঙ্কার ফোড়ন দিয়ে ছাতু কিংবা ভেজানো বিউলির ডাল বাটাকে কড়াইতে ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে। জিরে গুঁড়ো আর ধনে গুঁড়োর সুগন্ধে যখন রান্নাঘর ম-ম করবে, তখনই বুঝবেন পুর তৈরি।
ভাজার কৌশলেই লুকিয়ে খাস্তা রহস্য
লেচির ভেতরে পুর ভরে আলতো হাতে বেলার পর আসে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ভাজা। মনে রাখবেন, ধোঁয়া ওঠা গরম তেলে কচুরি ছাড়লে তা লুচির মতো নরম হয়ে যাবে। দোকানের মতো খাস্তা করতে হলে মাঝারি আঁচে ডুবো তেলে ধীরেসুস্থে ভাজতে হবে। কচুরি তেলের ওপর ভেসে উঠলে খুন্তি দিয়ে আলতো চাপে ফুলিয়ে নিয়ে দুই পিঠ সোনালী ও কড়কড়ে করে ভেজে নিলেই তৈরি। আলুর দম কিংবা ঘন ছোলার ডালের সঙ্গে পরিবেশন করুন এই ঘরোয়া হিংয়ের কচুরি। এই রবিবারে বাড়ির সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতে এর চেয়ে ভালো আর কিছু হতেই পারে না।