
Bengali Prawn Dhoka recipe 2026 বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর সেই প্রতিটি উৎসবেই নিরামিষ ধোঁকার ডালনা এক অপরিহার্য অঙ্গ। কিন্তু সেই একঘেয়েমি কাটাতে মা-ঠাকুমাদের আমলের হারিয়ে যাওয়া এক রাজকীয় পদ এবার ফিরে আসছে ভোজনরসিকদের পাতে। ছোলার ডালের সঙ্গে কুচো চিংড়ির মেলবন্ধনে তৈরি ‘চিংড়ি মাছের ধোঁকা’ আক্ষরিক অর্থেই রসনাতৃপ্তির এক নয়া দিগন্ত। নারকেলের দুধ আর মশলার জাদুতে তৈরি এই পদটি আপনার দুপুরের সাদামাটা ভাতের পাতকেও করে তুলতে পারে উৎসবের ভোজ।
উপকরণে রাজকীয় ছোঁয়া
এই পদটির প্রধান বিশেষত্ব হলো এর ধোঁকা তৈরির পদ্ধতি। ৩ কাপ ছোলার ডাল বাটার সঙ্গে ২ কাপ নারকেল কোড়া এবং ১ কাপ মিহি করে কুচানো ভাজা চিংড়ি মাছের মিশ্রণ একে অনন্য স্বাদ দেয়। স্বাদের ভারসাম্য আনতে এতে মেশানো হয় হিং, কালোজিরে, আদা বাটা ও সামান্য লঙ্কা গুঁড়ো। অন্যদিকে, গ্রেভি বা ঝোলের আভিজাত্য বাড়াতে ব্যবহার করা হয় ১ কাপ ঘন নারকেলের দুধ, টমেটো পেস্ট, আদা-রসুন বাটা এবং এক চামচ ঘি। স্বাদের বৈচিত্র্য আনতে কিসমিস কুচিও যোগ করা যেতে পারে।
রন্ধনশৈলী ও পরিবেশন
প্রথমে কড়াইতে তেল গরম করে নুন-হলুদ মাখানো কুচো চিংড়ি ভেজে নিতে হবে। এরপর তাতে ডাল বাটার মিশ্রণ ও মশলা দিয়ে ভালো করে কষিয়ে একটি তেল মাখানো থালায় সমান করে চেপে বসিয়ে দিতে হবে। মিশ্রণটি ঠান্ডা হলে বরফির আকারে কেটে লালচে করে ভেজে নিলেই তৈরি আপনার চিংড়ির ধোঁকা। এরপর কড়াইতে জিরে, তেজপাতা ও শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজ-টমেটো ও আদা-রসুন বাটা দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে। মশলা থেকে তেল ছাড়লে নারকেলের দুধ ও জল দিয়ে ফুটিয়ে গ্রেভি তৈরি করতে হবে।
সবশেষে একটি ছড়ানো পাত্রে কলাপাতা পেতে ভাজা ধোঁকাগুলো সাজিয়ে ওপর থেকে গরম গ্রেভি ঢেলে দিন। নামানোর আগে গরম মশলা ও কিসমিস ছড়িয়ে দিলে এর সুগন্ধ ম-ম করবে সারা বাড়ি। বাড়তি চমক আনতে ঘি ও কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়োর একটি তড়কা ওপর থেকে ছড়িয়ে দিলে দেখতেও হবে রেস্তোরাঁর মতো। গরম ভাতের সঙ্গে এই রাজকীয় চিংড়ির ধোঁকা আপনার রবিবাসরীয় আহারকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।