Advertisement

AC Maintenance Tips: এসি পরিণত হতে পারে টাইম বম্বে, প্রাণ বাঁচাতে মানুন এই বিধি

AC Maintenance Tips: বিশেষজ্ঞদের মতে, এসি চালু করার আগে প্রথম এবং প্রধান কাজ হলো একটি ভালো মানের ভোল্টেজ স্টেবিলাইজার ব্যবহার করা। বিশেষ করে আপনার এলাকায় যদি ঘন ঘন লোডশেডিং বা ভোল্টেজের ওঠা-নামা হয়, তবে স্টেবিলাইজার ছাড়া এসি চালানো কার্যত আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

এসি চালু করার আগে এটা করুনএসি চালু করার আগে এটা করুন
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 15 Mar 2026,
  • अपडेटेड 2:21 AM IST

AC Maintenance Tips: ফাগুনের শেষে রোদ্রের তেজ জানান দিচ্ছে, দহনবেলা আসন্ন। তীব্র গরমে নাজেহাল হয়ে একটু স্বস্তির খোঁজে ঘরে ঘরে এখন এসি চালানোর প্রস্তুতি তুঙ্গে। কিন্তু সাবধান! দীর্ঘ কয়েকমাস বন্ধ থাকার পর যান্ত্রিক পরীক্ষা না করেই সুইচ টিপে দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে। সামান্য একটি ভুল বা অবহেলা আপনার সাধের এসি-টিকে নিমেষেই ‘টাইম বম্ব’-এ পরিণত করতে পারে। সাম্প্রতিক অতীতে এসি বিস্ফোরণের একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ কতটা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসি চালু করার আগে প্রথম এবং প্রধান কাজ হলো একটি ভালো মানের ভোল্টেজ স্টেবিলাইজার ব্যবহার করা। বিশেষ করে আপনার এলাকায় যদি ঘন ঘন লোডশেডিং বা ভোল্টেজের ওঠা-নামা হয়, তবে স্টেবিলাইজার ছাড়া এসি চালানো কার্যত আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এটি কেবল যন্ত্রটির আয়ু বাড়ায় না, বরং উচ্চ বৈদ্যুতিক বিভবের ঝাপটা থেকে আপনার বহুমূল্য এসি-টিকে সুরক্ষিত রাখে। তাই এসি-র সঙ্গে সঠিক মানের স্টেবিলাইজার আছে কি না, তা আজই নিশ্চিত করুন।

দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ার ফলে এসির ভেতরে ধুলোবালি ও ময়লা জমে একাকার হয়ে থাকে। এই অবস্থায় কভার খুলেই এসি চালিয়ে দিলে কম্প্রেসরের ওপর মারাত্মক চাপ পড়ে। তাই এসি চালানোর আগে অবশ্যই পেশাদার টেকনিশিয়ান ডেকে পূর্ণাঙ্গ সার্ভিসিং করানো বাধ্যতামূলক। মনে রাখবেন, ময়লা ফিল্টার আর জ্যাম হয়ে থাকা কয়েল কেবল ইলেকট্রিক বিল বাড়ায় না, এটি যান্ত্রিক গোলযোগের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়ায়। ধুলোবালি পরিষ্কার না করে যন্ত্র চালানো মানেই বড় বিপদের ঝুঁকি নেওয়া।

বিস্ফোরণ এড়াতে বৈদ্যুতিক তার বা ওয়ারিংয়ের দিকে কড়া নজর দেওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় দীর্ঘ বিরতির সুযোগে ঘরের কোণে থাকা ইঁদুরেরা এসির ভেতরের তার কেটে কুচকুচ করে দেয়। আবার অনেক সময় তার আলগা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। এমন ক্ষতিগ্রস্ত তার থেকে শর্ট-সার্কিট হয়ে ভয়াবহ আগুন লাগা বা বিস্ফোরণ ঘটা বিচিত্র নয়। তাই প্লাগ পয়েন্ট থেকে শুরু করে ইনডোর ও আউটডোর ইউনিটের প্রতিটি সংযোগস্থল একবার ভালো করে পরীক্ষা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

Advertisement

এসির হৃদপিণ্ড হলো তার কম্প্রেসর। এছাড়া ফ্যান এবং ক্যাপাসিটারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তা যাচাই করা একান্ত জরুরি। অনেক সময় ক্যাপাসিটার দুর্বল হয়ে গেলে কম্প্রেসর গরম হতে শুরু করে, যা শেষ পর্যন্ত বিস্ফোরণের আকার নিতে পারে। সার্ভিসিংয়ের সময় এই অংশগুলোয় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা মরিচা পড়ার লক্ষণ থাকলে তা অভিজ্ঞ লোক দিয়ে সারিয়ে নিন। সামান্য মেরামতির খরচ বাঁচাতে গিয়ে প্রাণের ঝুঁকি নেবেন না।

গ্যাস লিকেজ বা রেফ্রিজারেন্টের অভাব এসির আরেকটি বড় সমস্যা। স্প্লিট হোক বা উইন্ডো— যদি দেখেন এসি ঠিকমতো ঠান্ডা বাতাস দিচ্ছে না, তবে বুঝবেন গ্যাসে গোলমাল আছে। গ্যাস লিকেজ হওয়া অবস্থায় এসি চালালে কেবল ঘরে গরমই লাগবে না, বরং লিকেজ হওয়া গ্যাস বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গের সংস্পর্শে এলে মারাত্মক অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। তাই থার্মোমিটার বা অন্য কোনো আধুনিক পদ্ধতিতে গ্যাস প্রেসার চেক করিয়ে নেওয়া এই মরশুমের প্রাথমিক দায়িত্ব।

যাঁরা বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং দ্রুত ঠান্ডা হওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য ‘টার্বো মোড’ একটি চমৎকার বিকল্প। এই মোড অন করলে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয়, ফলে কম্প্রেসরের ওপর দীর্ঘ সময় ধরে চাপ পড়ে না। এটি যেমন ইলেকট্রিক বিল নিয়ন্ত্রণে রাখে, তেমনই যন্ত্রটির স্থায়িত্ব বাড়াতে সাহায্য করে। তবে মনে রাখবেন, আধুনিক প্রযুক্তি তখনই কার্যকর হয় যখন তার পেছনের যান্ত্রিক পরিকাঠামো মজবুত থাকে। তাই টেকনিক্যাল ফিচার ব্যবহারের আগে যান্ত্রিক সুস্থতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

পরিশেষে, একটানা এসি ব্যবহারের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে যন্ত্রটিকে বিশ্রামহীনভাবে চালিয়ে রাখলে তা উত্তপ্ত হয়ে বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এসি যেমন আপনাকে শান্তি দেবে, তাকেও তেমন একটু শান্তিতে থাকতে দিতে হবে। তাই গরম পড়ার আগেই অভিজ্ঞ মেকানিক ডেকে সার্ভিসিং করিয়ে নিন এবং নিরাপত্তা বিধিগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করুন। মনে রাখবেন, আপনার একটু সতর্কতা কেবল আপনার যন্ত্রটিকেই বাঁচাবে না, সুরক্ষিত রাখবে আপনার পরিবারকেও।

Read more!
Advertisement
Advertisement