
(লিখছেন বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: রুদ্রজিৎ পাল)
গতকাল রাত থেকেই হাওয়া বদল হয়েছে। ঝড়বৃষ্টিতে কমেছে কলকাতা সহ গোটা বাংলার তাপমাত্রা। ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছে। আর এই আবহাওয়া অনেকেই উপভোগ করছেন। যদিও কথায় আছে কারও পৌষ মাস তো কারও সর্বনাশ। তাই এহেন পারদ পতনেও অনেকের শরীরের হাল বিগড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
কাদের বিপদ বেশি?
হঠাৎ করেই তাপমাত্রা নিম্নমুখী হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যে কোনও মানুষেরই সর্দি, কাশি হতে পারে। নাক দিয়ে গড়াতে পারে জল। কিন্তু অন্য সকলের তুলনায় কিছু মানুষের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে বেশি। আর সেই তালিকায় প্রথমেই রয়েছে অ্যাজমা এবং সিওপিডি রোগী। এই সব অসুখ থাকলে এই সময় সাবধান থাকতে হবে। নইলে হুট করে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যেতে পারে।
এছাড়া অনেকের আবার অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের সমস্যা রয়েছে। তাঁদের নাক দিয়ে জল গড়াতে পারে। হাঁচি শুরু হতে পারে। এমনকী সর্দি, কাশিও পারে জ্বালাতে।
আবার যাঁদের সাইনুসাইটিসের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা বৃষ্টিতে ভিজলে ইনফেকশন বেড়ে যেতে পারে। যার ফলে জ্বর আসতে পারে। এমনকী মাথা ব্যথার বাড়ারও রয়েছে আশঙ্কা।
কী করবেন?
শ্বাসকষ্ট শুরু হলে সিওপিডি এবং অ্যাজমা রোগীরা ইনহেলার নিন। এমনকী কাশি শুরু হলেও ইনহেলার নিতে হবে। তাহলেই সমস্যা কমে যাবে।
এছাড়া অ্যালার্জির সমস্যা থাকতে থাকলে, অ্যান্টিঅ্যালার্জিক ওষুধ খেতে পারেন। তাতে সমস্যার ফাঁদ এড়িয়ে পারেন। কমবে হাঁচি এবং নাক দিয়ে জল গড়ানোর সমস্যা।
এই সময় জ্বর আসতে পারে। এমন ক্ষেত্রে খেতে পারেন প্যারাসিটামল। তবে যাই হয়ে যাক, অ্যান্টিবায়োটিক আর কাশির ওষুধ খাবেন না। এই দুই ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নইলে বিপদের থাকবে না শেষ।
ভিজে গেলে কী করবেন?
মাথায় বা বৃষ্টির জল গায়ে বসলে সমস্যা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সবার প্রথমে জামা এবং প্যান্ট বদলে নিন। মাথা ভাল করে মুছে নিতে হবে। তাহলেই মিটবে সমস্যা।
এছাড়া গরম চা বা কফি খেতে পারেন। এছাড়া করতে পারেন গার্গল। এমনকী স্টিম নেওয়াও যেতে পারে। তাতেই সর্দি বা নাক দিয়ে গড়ানোর মতো সমস্যা মিটে যাবে।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।