
কোলেস্টেরল এক ধরনের চর্বিজাতীয়, তৈলাক্ত স্টেরয়েড যা কোষের ঝিল্লি বা (সেল মেমব্রেনে)-এ পাওয়া যায় এবং যা সব প্রাণীর রক্তে পরিবাহিত হয়। একটি সুস্থ শরীরের জন্য প্রচুর কোলেস্টেরল প্রয়োজন। কোলেস্টেরল কোষ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি স্নায়ু কোষকে রক্ষা করতে, ভিটামিন ও হরমোন তৈরি করতে কাজ করে।
শীতকালে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে এলডিএল (খারাপ কোলেস্টেরল) দ্রুত বাড়তে পারে। ঠান্ডায় মানুষ কম জল পান করে, শারীরিক কার্যকলাপ কমে যায় এবং ঘি ও মাখনের মতো উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খেতে শুরু করে। এটি সরাসরি হার্টের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে, যা হার্ট ফেইলিওর, হার্ট অ্যাটাক এবং ব্লকেজের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সাহায্যে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
আজকাল উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। আগে এটি সাধারণত বয়স্কদের মধ্যে দেখা যেত। কিন্তু এখন ২০ -৩০ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরাও এর শিকার হচ্ছেন। উচ্চ কোলেস্টেরলকে সাধারণ ভেবে হালকাভাবে নেওয়ার ভুল করবেন না, কারণ এটি আপনার হার্ট এবং স্বাস্থ্যের জন্য একটি বিপদের সংকেত হতে পারে। উচ্চ এলডিএল (খারাপ কোলেস্টেরল) হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপের মতো গুরুতর সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই এটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এর ফলে হার্ট ভাল থাকবে। এমন কিছু খাবার আছে, যা উচ্চ কোলেস্টেরল কমাতে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে পারেন।
দুগ্ধজাত পণ্য কম খান
দুধ, পনির এবং মাখনের মতো দুগ্ধজাত পণ্যগুলিতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে, যা কোলেস্টেরল বাড়ায়, বিশেষ করে মাখন। মাত্র এক চা চামচ মাখনে ৭.৩ গ্রাম স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। মনে রাখবেন, আপনি যদি দিনে ২,০০০ ক্যালোরি গ্রহণ করেন, তবে আপনার মাত্র ১১-১৩ গ্রাম স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ করা উচিত। অনেক বেকড খাবার এবং উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাবারেও মাখন থাকে। তাই কেনার আগে লেবেল দেখে নিন এবং কম ফ্যাটযুক্ত দুধ বা দই ব্যবহার করুন।
রেড মিট কম খান
আপনার যদি উচ্চ কোলেস্টেরল থাকে, তাহলে রেড মিট কম খাওয়া উচিত, কারণ এটি কোলেস্টেরল বাড়ায়। বেকন এবং সসেজের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংসে এমন রাসায়নিক পদার্থ থাকে যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। মাংস রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ তাপে মাংস গ্রিল বা ভাজলে ক্ষতিকারক রাসায়নিক তৈরি হতে পারে। আপনি যদি মাঝে মাঝে মাংস খান, তবে সেদ্ধ করা, ভাপানো বা কম আঁচে রান্না করা একটি ভাল বিকল্প।
ভাজা খাবার সীমিত করুন
এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভাজাভুজি খাবার। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন এবং যে কোনও ডিপ-ফ্রাইড স্ন্যাকসে ক্যালোরি এবং ট্রান্স ফ্যাট বেশি থাকে, যা হৃদয়ের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু আপনি যদি মুচমুচে খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে না চান, তবে এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করতে পারেন, বেক করতে পারেন বা অল্প অলিভ অয়েলে প্যান-ফ্রাই করতে পারেন।