
শরীর সুস্থ রাখতে সবচেয়ে সহজ উপায় জল পান করা। অথচ সেটাই সবচেয়ে অবহেলিত অভ্যাসগুলির মধ্যে অন্যতম। অনেকেই তেষ্টা না পেলে জল খান না। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, তেষ্টা লাগা মানেই শরীর ইতিমধ্যেই ডিহাইড্রেশনের দিকে এগোচ্ছে। এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আর তা না হলেই শরীরে হাজারো সমস্যা দেখা দেবে।
মানবদেহের প্রায় ৬০ শতাংশই জল দিয়ে তৈরি। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি পরিবহন, হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখা এবং শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়ার ক্ষেত্রে জলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পর্যাপ্ত জল না খেলে ক্লান্তি, মাথাব্যথা, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ১-২ গ্লাস জল খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী। এটি শরীরের টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে এবং মেটাবলিজম সক্রিয় করে। এর ফলে হজম শক্তি উন্নত হয় এবং সারাদিন শরীর সতেজ থাকে।
অনেকেই খাবারের সময় অতিরিক্ত জল খেয়ে ফেলেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন, খাবারের ঠিক আগে বা পরে অতিরিক্ত জল খাওয়া ঠিক নয়। এতে হজমের রস পাতলা হয়ে যেতে পারে। খাবারের অন্তত ৩০ মিনিট আগে বা পরে জল খাওয়া ভাল অভ্যাস।
গরমের সময়, শরীরচর্চা করার পরে বা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে জল বেরিয়ে যায়। তাই এই সময় বেশি জল খাওয়া প্রয়োজন। তবে একবারে অনেক জল খাওয়ার বদলে সারাদিন অল্প অল্প করে জল খাওয়াই সবচেয়ে ভাল অভ্যাস।
মনে রাখবেন,
১. সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে অন্তত ১-২ গ্লাস জল খান
২. বাইরে বের হলে সবসময় সঙ্গে একটি জলের বোতল রাখুন
৩. তেষ্টা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে নির্দিষ্ট সময় অন্তর জল খান
৪. মোবাইলে রিমাইন্ডার সেট করে জল খাওয়ার সময় মনে করিয়ে দিতে পারেন
৫. গরমে, ব্যায়ামের পরে বা বেশি ঘাম হলে বেশি জল খান
৬. একবারে অনেক জল না খেয়ে সারাদিন অল্প অল্প করে জল খান
৭. ফল, যেমন তরমুজ, শসা, কমলালেবু,এগুলিও শরীরে জলের চাহিদা পূরণে সাহায্য করে
৮. ঘুমোতে যাওয়ার আগে অল্প পরিমাণ জল খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী
পর্যাপ্ত জল খাওয়ার এই সহজ অভ্যাসই শরীর সুস্থ রাখা, ত্বক ভাল রাখা এবং শরীরের শক্তি বজায় রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় অভ্যাস।