
হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন কতটা তেল ব্যবহার করা নিরাপদ? কোন রান্নার তেল হৃদপিণ্ডের জন্য সবচেয়ে ভালো, এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, সঠিক তেল নির্বাচন ও পরিমিত ব্যবহারই সুস্থ হার্টের চাবিকাঠি।
ভারতীয় রান্নায় তেলের ভূমিকা অপরিসীম। ফোড়ন থেকে শুরু করে ভাজা খাবার, সবেতেই তেল অপরিহার্য। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, অতিরিক্ত বা ভুল ধরনের তেল নিয়মিত খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই প্রতিদিন কী পরিমাণ তেল ব্যবহার করা উচিত এবং কোন তেল সবচেয়ে উপকারী, তা জানা অত্যন্ত জরুরি।
ফরিদাবাদের মারেঙ্গো এশিয়া হাসপাতালের প্রোগ্রাম ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর (কার্ডিওলজি) ডা. গজিন্দর কুমার গোয়েলের মতে, একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক তেল গ্রহণ ৩ থেকে ৪ চা-চামচের বেশি হওয়া উচিত নয়। অর্থাৎ দিনে প্রায় ১৫-২০ মিলিলিটার তেলই যথেষ্ট। এই হিসাবে মাসে একজনের জন্য ৫০০-৬০০ মিলিলিটার তেল নিরাপদ। চার সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে মাসে মোটামুটি ২ লিটারের বেশি তেল ব্যবহার না করাই ভালো।
হৃদপিণ্ডের জন্য কোন তেল সবচেয়ে উপকারী?
ডা. গোয়েলের মতে, সর্ষের তেল, সূর্যমুখী তেল এবং জলপাই তেল হৃদস্বাস্থ্যের জন্য তুলনামূলকভাবে ভালো। তবে ভারতীয় রান্নার জন্য সবচেয়ে উপযোগী হল সর্ষের তেল।
কেন সর্ষের তেল সেরা?
অপরিশোধিত বা কাঁচা সর্ষের তেলের স্মোক পয়েন্ট প্রায় ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে উচ্চ তাপে রান্না হলেও এই তেল সহজে পুড়ে যায় না এবং পুষ্টিগুণ বজায় থাকে। এতে থাকা ভালো ফ্যাট হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী।
সূর্যমুখী তেলও হৃদরোগের ক্ষেত্রে ভালো বিকল্প হলেও জলপাই তেল ভারতীয় রান্নার জন্য খুব উপযোগী নয়, কারণ এর স্মোক পয়েন্ট তুলনামূলকভাবে কম।
রিফাইন তেল কেন এড়ানো উচিত?
পরিশোধিত বা রিফাইন তেল উচ্চ তাপমাত্রা ও রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাতকরণের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়। এর ফলে তেলে ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘদিন খেলে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায়। এই কোলেস্টেরলই হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের অন্যতম কারণ।
অতিরিক্ত তেল খাওয়ার ঝুঁকি
মাঝে মাঝে ভাজা খাবার খেলে বড় ক্ষতি নাও হতে পারে। কিন্তু নিয়মিত অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার খেলে ধমনিতে চর্বি জমা, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
নিরাপদ তেলের পরিমাণ
প্রতিদিন: ১৫-২০ মিলি
প্রতি সপ্তাহে: ১০৫-১৪০ মিলি
প্রতি মাসে: ৫০০-৬০০ মিলি
এই পরিমাণ একজন সুস্থ মানুষের জন্য নিরাপদ।
হৃদরোগীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ
যাঁরা ইতিমধ্যেই হৃদরোগে ভুগছেন, তাঁদের তেল খাওয়ার পরিমাণ আরও কম হওয়া প্রয়োজন। ডা. গোয়েলের মতে, হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে মাসে ৭৫০ মিলিলিটারের বেশি তেল খাওয়া উচিত নয়। তিনি পরামর্শ দেন, মোট তেলের মধ্যে ৮০ শতাংশ সর্ষের তেল এবং ২০ শতাংশ ঘি বা মাখন ব্যবহার করলে স্বাদ ও পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে।
সঠিক তেল বেছে নেওয়া ও পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করলে অল্প বয়সেই হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সুস্থ থাকতে চাইলে আজ থেকেই তেলের ব্যবহারে নজর দিন।