
ইতিমধ্যেই বাংলায় দুইজন নার্স আক্রান্ত হয়েছেন নিপায়। তাঁদের চিকিৎসা চলছে আইসিইউ-তে। পাশাপাশি একজন হাউজ স্টাফও নিপা সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া ওই দুই নার্সের সংস্পর্শে আসার কারণে ১২০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আর এমন পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকতে বলছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলতে বলছেন। আর এই বিষয়টা নিয়েই আরও এক পরামর্শ দিলেন বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ শিঞ্জিনী ঘোষ।
কী বললেন তিনি?
এই বিশিষ্ট চিকিৎসক আপাতত সমস্ত ধরনের ফল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন। আর নিজের এই বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তিও দিয়েছেন ডাঃ ঘোষ। তিনি বলেন, 'আমরা সবাই জানি যে বাদুড় ফলে কামড় বসায়। আর সেই ফল যদি কোনওভাবে আমরা খেয়ে ফেলি, তাহলে হতে পারে নিপা। তাই অনেকেই ফলের উপর বাদুড়ের কামড়ের দাগ রয়েছে কি না, সেটা দেখে খাচ্ছেন। তবে মাথায় রাখতে হবে, অনেক সময় কামড়ের দাগ বোঝায় ভুল হয়ে যেতে পারে। আর সেই ফল খেয়ে নিপায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।' তাই তিনি ফল খেতে বারণ করলেন কয়েক দিনের জন্য।
সেই সঙ্গে আরও একটা যুক্তি দিয়েছেন তিনি। এই চিকিৎসক বলেন, 'শুধু বাদুড় ফলে কামড় দিলেই ভাইরাস ছড়ায় না। বরং বাদুড়ের মল, লালা ও মূত্র ফলে লেগে গেলেও সেটা থেকে হতে পারে সমস্যা। আর সেই কারণেই চেষ্টা করতে হবে ফল এড়িয়ে যাওয়ার।'
ফল না খেলে সমস্যা হবে না?
এই চিকিৎসক বলেন, 'নিপা সংক্রমণ খুব বেশি দিন সক্রিয় থাকে না। কিছুদিনের মধ্যেই সবটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তাই খুব বেশি দিন ফলের থেকে দূরে থাকতে হবে না। বরং কয়েকটা দিন একটু সজাগ থাকুন। ঝুঁকি না নিয়ে ফলই এড়িয়ে যান। তাতেই সুস্থ থাকার কাজে এগিয়ে যাবেন।
আর কী কী নিয়ম মেনে চলতে হবে?
নিপা প্রতিরোধে আরও কিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিলেন এই চিকিৎসক। যেমন ধরুন-
১. যেই সব জায়গায় বাদুড় থাকতে পারে, সেখানে যাবেন না
২. শূকরের মাংস কিছু দিন খাবেন না
৩. শূকরের আশপাশে না যাওয়াই ভাল
৪. মাস্ক পরুন নিয়মিত
৫. হাত ধুয়ে খাবার খান
ব্যাস, এই কয়েকটি নিয়ম মেনেই আপনি সুস্থ থাকার কাজে এগিয়ে যাবেন।
পরিশেষে ডাঃ ঘোষ বলেন, নিপার ছড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতা খুব বেশি নয়। তাই এটা নিয়ে বেশি চিন্তা করবেন না। বরং শান্ত থাকুন।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।