
(লিখছেন বিশিষ্ট ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা: আশিস মিত্র)
ডায়াবেটিস রোগীদের একাধিক নিয়ম মেনে চলা জরুরি। বিশেষত, তাঁদের রোজ সময়মতো খাবার খেতে হবে। খাবার না খেলেই শরীরের হাল বিগড়ে যেতে পারে।
যদিও মুশকিল হল, অনেক ডায়াবেটিস রোগীই সকালে খাবার খান না। তাঁরা ব্রেকফাস্ট স্কিপ করেন। আবার অপর একটি দল তো ব্রেকফাস্ট করেন লেটে। ঘড়িতে ১০-১১টা না বাজলে তাঁদের সকালের খাবার মুখে ওঠে না। আর এই ভুলটা করেন বলেই তাঁদের সুগার লেভেল বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এমনকী হার্ট থেকে চোখ, কিডনির ক্ষতি হতে পারে। তাই এই ভুল নয়। সকাল সকাল খেয়ে নিতে হবে ব্রেকফাস্ট।
ব্রেকফাস্ট কেন জরুরি?
আসলে ডায়াবেটিস রোগীদের বেশিক্ষণ না খেয়ে থাকতে নেই। এমনটা করলে শরীরে ইনসুলিন হরমোনের কার্যকারিতা বিগড়ে যেতে পারে। যার ফলে সুগার যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এছাড়া যাঁরা সকালে ইনসুলিন নেন বা ওষুধ খান, তাঁরা খাবার না খেলে সুগার ফল করতে পারে। তার থেকে যেতে পারে প্রাণ। তাই ডায়াবেটিস থাকলে ব্রেকফাস্ট করতেই হবে।
কোন সময় ব্রেকফাস্ট করলে সুগার কন্ট্রোলে থাকবে?
ডায়াবেটিস রোগীদের সকাল সকাল খাবার খেতে হবে। সকাল ৮টার মধ্যে ব্রেকফাস্ট করে নিলে সবথেকে বেশি ভাল হয়। তবে কোনও মতেই যেন সকাল ৯টার পর ব্রেকফাস্ট না করেন। তাতে শরীরের ক্ষতি হতে পারে।
আর ডিনার করার মোটামুটি দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর একটু অল্প কিছু খেতে পারেন। এই সময় ফল খাওয়া উপকারী। তাহলে সুগার কন্ট্রোলে থাকবে।
ব্রেকফাস্টে ডায়েটে কী রাখা উচিত?
ডায়াবেটিস থাকলে ব্রেকফাস্টের ডায়েট চার্ট নিয়েও সাবধান হতে হবে। এই লিস্টে বেশি কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার রাখা যাবে না। তাই রুটি, ভাত খেলেও কম খান। আর পরোটা, পাউরুটি তো খাওয়াই যাবে না। কারণ, কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ এই খাবারগুলি সুগার বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এই সবের বদলে ওটস বা ডালিয়া খেতে পারলে বেশি লাভ।
এই সময় বেশি করে প্রোটিন খেতে হবে। ডিম, মাছ ও চিকেন খান নিয়মিত। এগুলিতে উন্নত মানের প্রোটিন রয়েছে। তাই এই সব খাবার খেলে অনায়াসে সুগারকে কন্ট্রোলে রাখতে পারবেন।
বোনাস টিপস
ব্রেকফাস্ট করার পর ১০ মিনিট হাঁটুন। হাঁটার সময় না পেলে করুন স্কোয়াট। তাতেই সুগার লেভেলকে কাবু করতে পারবেন।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।