
(লিখছেন চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হাসপাতালের মেডিক্যাল অঙ্কোলজির প্রধান ডা: পার্থ নাথ)
প্রতিবছর ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আর আগামী দিনে যে এই পরিসংখ্যান আরও ভয়াবহ দিকে যাবে, সেই দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছে একাধিক গবেষণা। যদিও ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও, এই রোগ নিয়ে এখনও তেমন একটা সচেতনতা নেই। আর সেটাই বিপদ ডেকে আনে।
এই যেমন, অধিকাংশ ক্যান্সার আক্রান্ত এবং তাঁর পরিবারের লোকজন মনে করেন ক্যান্সারের গ্রেড এবং স্টেজ একই জিনিস। যদিও বিষয়টা একবারেই তেমন নয়। ক্যান্সারের গ্রেড এবং স্টেজ একবারেই একবারেই আলাদা জিনিস। এই বিষয়টা একটু বুঝে নিলে সুবিধা হবে। তাই আজকে ক্যান্সারের গ্রেড এবং ক্যান্সারের স্টেজ নিয়ে একটু আলোচনা করলাম।
গ্রেড কী?
ক্যান্সার নির্ণয়ের সময় বায়োপসি করা হয়। এই বায়োপসি রিপোর্টে টিউমারের চরিত্র জানান প্যাথোলজির চিকিৎসক। তিনি জানিয়ে দেন, যে টিউমারটি কতটা বিপজ্জনক। সেটাকেই সহজ ভাষায় গ্রেড বলা হয়।
ক্যান্সারের গ্রেড মোটামুটি ১ থেকে ৩ পর্যন্ত হয়। এক্ষেত্রে ক্যান্সার দ্রুত ছড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতা অনুসারে (টিউমার কতটা অ্যাগ্রেসিভ) গ্রেড দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে গ্রেড যত কম বা ১-এর দিকে থাকে, তত ভালো। এই ধরনের টিউমার ধীরে ধীরে ছড়ায়। আর গ্রেড যত ৩-এর দিকে যাবে, তত তাড়াতাড়ি ছড়াতে পারে টিউমার। এই হল গ্রেডের বিষয়টা।
স্টেজ কী?
একজন বিশেষজ্ঞ ক্যান্সার চিকিৎসক এক্সরে, পেট সিটি স্ক্যান, এমআরআই বা অন্যান্য কিছু টেস্ট দেখে রোগের স্টেজ ঠিক করেন। এই স্টেজ ঠিক করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এর মাধ্যমে বোঝা যায় ক্যান্সার কতটা ছড়িয়েছে।
আগে সাধারণত ১ থেকে ৪ স্টেজে ক্যান্সারকে ভাগ করা হতো। যদিও এখন বিষয়টা একবারেই তেমন নেই। বর্তমানে TNM স্টেজে জোর দেওয়া হয়।
এক্ষেত্রে টি-এর অর্থ হল টিউমার। এর মাধ্যমে টিউমারের আকার বোঝান হয়। এন-এর অর্থ নোডাল ইনভলভমেন্ট। ক্যান্সার লিম্ফ নোডসে ছড়িয়েছে কি না, সেটা এর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। আর এম-এর অর্থ হল মেটাস্ট্যাসিস। ক্যান্সার কতটা ছড়িয়েছে, সেটা বোঝাতে এটি ব্যবহার করা হয়।
আর বর্তমানে এই টিএনএম স্টেজিং সারা পৃথিবীতে গৃহীত। এই হিসেবটা ভারতেও যা, আমেরিকাতেও তাই। তাই যে কোনও ক্যানসার রোগীর প্রেসক্রিপশনে টিএনএম স্টেজিং লেখা থাকে। তার উপর ভিত্তি করেই চিকিৎসার রূপরেখা ঠিক করা হয়।
এগুলি কেন জরুরি?
ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে গ্রেড এবং স্টেজ দুটোই জরুরি। টিউমার যদি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রাখে, তাহলে চিকিৎসাও দ্রুত করতে হবে। অ্যাডভান্স চিকিৎসা করতে হবে।
ঠিক একইভাবে স্টেজ যত খারাপ হবে, টিউমার যদি ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে, তাহলেও চিকিৎসা হবে অন্য রকম। এই পরিস্থিতিতেও ভাল মানের চিকিৎসা প্রয়োজন।
এছাড়া এই দুইয়ের উপর নির্ভর করেই ঠিক করা হয় রোগীর কেমো, সার্জারি, রেডিয়েশন না কোন ধরনের থেরাপির প্রয়োজন। তাই এই দু'টি বিষয় ক্যান্সার চিকিৎসায় খুবই জরুরি।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।