
(লিখছেন কলকাতা শহরের বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: রুদ্রজিৎ পাল)
বাঙালি মানেই গ্যাস, অম্বল। তাই তো আমাদের বাড়িতে কিছু থাকুক না থাকুন গ্যাসের ওষুধ থাকবেই। কিছু হল বা না হল এই ওষুধ টপ করে গিলে নেওয়ার অভ্যাস আমাদের রয়েছে।
যদিও আমরা যেগুলিকে গ্যাসের ওষুধ হিসেবে খাই, সেগুলি নিয়মিত খেলে একাধিক জটিল অসুখ নিতে পারে পিছু। তাই যাঁরা নিয়মিত এই ধরনের ওষুধ খাচ্ছেন, তাঁরা সাবধান হন। চিকিৎসক না বললে এই ধরনের ওষুধ খাবেন না।
বিপদের নাম পিপিআই
এখন দোকানে গিয়ে গ্যাসের ওষুধের কথা বললেই পিপিআই দেওয়া হয়। এটি অত্যন্ত কার্যকরী একটি ওষুধ। এই ওষুধ খেলেই গ্যাস, অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা নিমেষে উধাও হয়ে যায়।
আসলে পিপিআই ওষুধগুলির পুরো কথা হল প্রোটোন পাম্প ইনহিবিটরর্স। এই ওষুধগুলি পেটের অন্দরে অ্যাসিড ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। যার ফলে গ্যাস, অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা থেকে দ্রুত রেহাই পাওয়া যায়।
আর ওমিপ্রাজল, এসোমিপ্রাজল, প্যান্টোপ্রাজল ও রেবেপ্রাজল হল এই পিপিআই ধরনের ওষুধ। আর এই সব ওষুধ প্রায় সবার বাড়িতেই থাকে।
মাথায় রাখতে হবে, সাধারণ গ্যাস, অ্যাসিডিটির জন্য এই ওষুধ বেশি ব্যবহার ঠিক নয়। বরং ক্রনিক অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা জিইআরজি, স্টমাক আলসার, এইচ পাইলোরি ইনফেকশন সহ আরও কিছুসমস্যাতেই এর ব্যবহার জরুরি। কিন্তু এখন হচ্ছে ঠিক উল্টো। অনেক মানুষ দিনের পর দিন এই ধরনের ওষুধ খেয়ে যাচ্ছেন। তাতেই বিপদের আশঙ্কা বাড়ছে।
কী কী সমস্যা হতে পারে?
এই ওষুধ অনেকেই বছরের পর বছর খেতে থাকেন। আর সেই কারণে এই সব সমস্যা হতে পারে-
১. কিডনির বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। ক্রনিক কিডনি ডিজিজ নিতে পারে পিছু।
২. এই ধরনের ওষুধ নিয়মিত খেলে বিপদে হাড়ের ক্ষয় হতে পারে।
৩. শরীরে একাধিক ভিটামিনের অভাব হতে পারে।
কখন সমস্যা নেই?
এই খবর পড়ে ঘাবড়ে যাবেন না। বরং চেষ্টা করুন মাঝে মধ্যে এই ওষুধ খাওয়ার। মাসে ৪ থেকে ৫ বার এই ওষুধ খেলে কোনও সমস্যা নেই।
কীভাবে খাবেন?
সমস্যা হলেই এই ওষুধ খান। গ্যাস, অ্যাসিডিটি, পেটে ব্যথায় খেতে পারেন। তাতেই সুস্থ থাকার কাজে অনেকটাই এগিয়ে যাবেন।
লিকুইড অ্যান্টাসিড খান
এই ধরনের সমস্যায় লিকুইড অ্যান্টাসিড খুবই উপকারী। এই ধরনের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই কম। তাই লিকুইড অ্যান্টাসিড বাড়িতে রাখুন।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।