
শীত পড়তেই বাড়ে বাতের ব্যথা। হাঁটু, পিঠ, কোমরের যন্ত্রণা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে দেয়। আর এমনটা হওয়ার পিছনে নার্ভের কারসাজি রয়েছে বলে জানালেন কলকাতা শহরের বিশিষ্ট মেডিসিন ও রিউম্যাটোলজির চিকিৎসক ডাঃ রুদ্রজিৎ পাল। তিনি bangla.aajtak.in-কে বলেন, 'তাপমাত্রা একটু শীতল হতেই নার্ভগুলি বেশ সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। যার ফলে ব্যথা-বেদনা অনেকটাই বৃদ্ধি পায়।'
এখন প্রশ্ন হল, যাদের বাতের ব্যথা রয়েছে, তারা শীতের সময় ঠিক কীভাবে নিজেকে সুস্থ রাখবেন? আর সেই উত্তরটাও দিলেন ডাঃ পাল। আসুন তাঁর পরামর্শ জেনে নেওয়া যাক।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
এই সময় ব্যথা বাড়লে সবার প্রথমে নিজের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তাঁর কাছে গিয়ে নিজের সমস্যা বলতে হবে। তার উপর নির্ভর করেই চিকিৎসক ওষুধ বদলে দিতে পারেন বা ওষুধের ডোজ বদলে দিতে পারেন। তাহলেই সুস্থ কাজে এগিয়ে যাবেন বলে মনে করেন ডাঃ পাল।
বেশি ঠান্ডায় বাইরে নয়
এই সময় যতটা সম্ভব ঘরে থাকতে হবে। বিশেষত, ভোর এবং সন্ধের পর বাইরে না বেরনোর চেষ্টা করুন। তাতেই খেলা ঘুরে যাবে। ঠান্ডা লাগবে কম। যার ফলে ব্যথা-বেদনা কমবে বলেই মনে করেন এই চিকিৎসক। তাই আজ থেকে এই নিয়মটা মেনে চলা মাস্ট।
শীত পোশাক পরা মাস্ট
ডাঃ পাল বলেন, 'খুব ঠান্ডা পড়েছে। এই সময় ঘরেও শীত পোশাক পরতে হবে। পায়ে মোজা থাকা মাস্ট। হাতে যদি ব্যথা থাকে, তাহলে গ্লাভস পরুন। তাহলেই জায়গাগুলো গরম থাকবে। যার ফলে অনায়াসে কমবে ব্যথা।'
গরম জলে স্নান করুন
সাধারণত, বাতের ব্যথা যাঁদের রয়েছে, তাঁরা গরম জলে স্নান করলে আরাম পান। তাই আপনারও যদি গরমে স্নান করলে আরামের অনুভূতি হয়, সেক্ষেত্রে সেই জলেই স্নান করুন। তাতেই খেলা ঘুরে যাবে। হাঁটু, কোমরের ব্যথা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করেন ডাঃ পাল।
খাওয়াদাওয়া নিয়ে সাবধান
চেষ্টা করুন ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলার। এছাড়া আলট্রাপ্রসেসড ফুডও খাওয়া যাবে না। কারণ, এগুলি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এই সব খাবার প্রদাহ এবং ব্যথা বাড়াতে পারে। তার বদলে খান শাক, সবজি, ফল, বাদাম, মাছ। তাতে প্রদাহ কমবে। আপনাকে খুব বেশি ব্যথায় ভুগতে হবে না বলে জানালেন ডাঃ পাল।
বিদ্র: এই প্রতিবেদটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।