
(লিখছেন বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: রুদ্রজিৎ পাল)
হঠাৎই কাঁধে ব্যথা? হাত তুলতে সমস্যা হচ্ছে? তাহলে একটু সতর্ক হতে হবে। কারণ, এর পিছনে থাকতে পারে ফ্রোজেন শোল্ডারের মতো সমস্যা। আর এই রোগকে একবারে অবহেলা করবেন না। এই সমস্যার দরুন বড়সড় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
অসুখটা কী?
আমাদের কাঁধের জয়েন্টে রয়েছে লিগামেন্ট। সেই লিগামেন্ট টেন্ডনে ইনফ্লামেশন হলে ব্যথা শুরু হয়। প্রথমেই ব্যবস্থা না নিলে লিগামেন্টের বেশি ক্ষতি হতে পারে। তারপর ব্যথা যন্ত্রণা বাড়ে। কাজ করাও যায় না।
কী কী লক্ষণ থাকে?
কীভাবে ধরা পড়বে রোগ?
এই অসুখ ধরার জন্য ক্লিনিক্যাল টেস্টই যথেষ্ঠ। অর্থাৎ রোগীকে দেখে, তাঁর সঙ্গে কথা বলেই এই অসুখটি সম্পর্কে বোঝা যায়। বেশি কিছু প্রয়োজন হয় না। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসক এমআরআই দিতে পারেন। তার মাধ্যমেই রোগ ধরা পড়ে।
কাদের বেশি হয়?
চিকিৎসা জরুরি
এই রোগের লক্ষণ দেখা দিলেই চিকিৎসকের কাছে যান। তিনি আপনাকে কিছু অ্যান্টিইনফ্লামেটরি ওষুধ দিতে পারেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ব্যথা কমানোর ওষুধও খেতে হতে পারে। সেই সঙ্গে করতে হবে ফিজিও থেরাপি এবং ব্যায়াম। তাতেই সুস্থ হতে পারবেন। যদিও এই রোগ থেকে দ্রুত মুক্তি মেলে না। মোটামুটি ৬ মাস থেকে ১ বছর চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
কোন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
এই সমস্যায় প্রথমে জেনারেল ফিজিশিয়ান বা মেডিসিনের চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন। তারপর তিনি মনে করলে অন্য চিকিৎসকের কাছে পাঠাতে পারেন।
দেরি করলে কী বিপদ?
এই রোগটাকে ফেলে রাখবেন না। তাতে জয়েন্টের বড় ক্ষতি হতে পারে। তখন ব্যথা-বেদনা চরম জায়গায় পৌঁছে যাবে। পাশাপাশি রোগটা সারতেও চাইবে না। এমন পরিস্থিতিতে অপারেশন করার প্রয়োজনও পড়তে পারে। তাই এই বিষয়টা অবশ্যই মাথায় রাখুন।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।