
বাংলায় নিপা ভাইরাস। অন্তত এমনটাই আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য দফতর। কারণ, বাংলার দুই নার্সের শরীরে নিপার মতো উপসর্গ মিলেছে বলেই খবর। সেই মতো নমুনা পরীক্ষার জন্যও পাঠানো হয়েছে। এমনকী রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকার মিলে এই পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াইতে নেমে পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
তাই এমন পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকা দরকার। নিপা ভাইরাস কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা কী, এই সকল বিষয় সম্পর্কে বিশদে জেনে নেওয়া জরুরি। আর সেই সম্পর্কে আমাদের বিশদে জানালেন বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ শিঞ্জিনী ঘোষ।
নিপা ভাইরাস কী?
এই প্রশ্নের উত্তরে ডাঃ ঘোষ বলেন, 'এটি একটি ভাইরাস। এই ভাইরাস বাদুড় থেকে ছড়ায়। তাই নিপা ভাইরাস আক্রান্ত হয়েযেই অসুখ হয়, তাকে জুনোটিক ডিজিজ নামে ডাকা হয়।'
লক্ষণ কী?
এই রোগের লক্ষণের সঙ্গে সাধারণ ভাইরাল ফিভারের মিল রয়েছে বলেই জানালেন ডাঃ ঘোষ। এক্ষেত্রে এই সব লক্ষণ দেখা যায়-
১. জ্বর
২. পেশিতে ব্যথা
৩. শ্বাসকষ্ট
৪. এনকেফালাইটিস (এই সময় বিভ্রান্তি ও খিঁচুনি হতে পারে)
ডাঃ ঘোষের মতে, এই রোগ কিছু ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি দিকে যেতে পারে। যার ফলে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে বলেও জানালেন তিনি।
এটা ছড়ায় কীভাবে?
এই ভাইরাসের বাহক হল বাদুড়। এই রোগটা মূলত বাদুড়ই ছড়ায়। তাই যাঁরা বাদুড়ের সংস্পর্শে আসেন, তাঁদেরই এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এছাড়া বাদুড়ের খাওয়া ফল খেলেও হতে পারে এই সমস্যা।
তবে মানুষ থেকে মানুষেও এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির বডি ফ্লুইডের (রক্তের মতো) সংস্পর্শে এলেও হতে পারে এই রোগ। তাই সাবধান হতে হবে।
চিকিৎসা কী?
এক্ষেত্রে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা ছাড়া কোনও উপায় নেই। প্রথমত, রোগীর জ্বর বা অন্যান্য যা যা সমস্যা হচ্ছে, সেগুলির চিকিৎসা করতে হবে। পাশাপাশি তাঁর শরীরে যাতে জল না কমে, সেটা নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া প্রয়োজনে ভেন্টিলেশন দিতে হতে পারে। সেই সঙ্গে কোনও কোনও ক্ষেত্রে মোনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি এবং কিছু অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগও দেওয়া হয়ে থাকে। তাতে কাজ হয় বলে জানালেন ডাঃ ঘোষ।
প্রতিরোধ কীভাবে?
এক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। যেমন ধরুন-
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।