
(লিখছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা: উৎসব দাস)
এখন ঘরে ঘরে কাশির সমস্যা। এমনকী রাস্তাতেও চিত্রটা একই। বাসে, ট্রেনে একটা বড় অংশের মানুষ কাশছেন। আর এমনটা হওয়ার পিছনে একাধিক ভাইরাস রয়েছে। বিশেষত, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসই সমস্যা তৈরি করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক। খুব দ্রুত একজন থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সর্দি, কাশিতে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। বাড়িতে একজন আক্রান্ত হলে পরপর অন্যান্যরাও কাশতে থাকেন। এটাই হল সহজ হিসেব।
যদিও মাথায় রাখতে হবে যে, কাশির সমস্যা শুরু হওয়ার পরই অনেকে নিজের বুদ্ধিতে দোকান থেকে কাফ সিরাপ কিনে আনেন। তারপর সেই সিরাপ নিয়মিত খেয়েই যান। আর তাতে না কমলে দোকানে বলে নিয়ে আসেন অ্যান্টিবায়োটিক। আর সেটাই হল বড় ভুল।
বড় বিপদ হতে পারে
অ্যান্টিবায়োটিক একটি ম্যাজিক ওষুধ। এই ওষুধটি ব্যাকটেরিয়াকে মারার কাজে একাই একশো। তবে মুশকিল হল, সর্দি, কাশির সমস্যার নেপথ্যে মূলত থাকে ভাইরাস। আর ভাইরাস মারার ক্ষমতা নেই অ্যান্টিবায়োটিকের। উল্টে এই ওষুধটা খাওয়ার কারণে বিপদ বাড়ে। পরে দরকারের সময় আর অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করতে চায় না। তাই চেষ্টা করুন অ্যান্টিবায়োটিক এড়িয়ে যাওয়ার। নিজের বুদ্ধিতে এই ওষুধ খাওয়াই যাবে না। শুধু চিকিৎসক বললেই খান।
কোন কোন ওষুধ সেফ?
সর্দি, কাশির জন্য আলাদা কোনও ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই। খুব গায়ে, হাত, পায়ে ব্যথা থাকলে বা জ্বর এলে খেতে পারেন প্যারাসিটামল। তার বাইরে কিছু খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
এছাড়া যদি খুব সর্দি, কাশি হয়, তাহলে খেতে পারেন অ্যান্টিঅ্যালার্জিক কোনও ওষুধ। এই ওষুধটা খেলেই উপকার মিলবে হাতেনাতে।
আর যা যা করবেন
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
জ্বর, সর্দি, কাশি যদি বাড়াবাড়ি দিকে যায়, তাহলে সাবধান হন। ডাক্তার দেখান। তিনি যা যা ওষুধ দেবেন, সেগুলি খান। নইলে বিপদ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। তবে এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র শিক্ষার উদ্দেশে লেখা হয়েছে। আমাদের তরফে এই তথ্যকে নিশ্চিত বলে জানান হচ্ছে না।