
গত কয়েক বছরে ফিটনেস ও স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন মানুষের সংখ্যা বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। ওজন কমানো, পেশি গঠন বা শরীর সুস্থ রাখতে এখন অনেকেই ক্যালোরি গুনে খান, নিয়মিত ব্যায়াম করেন এবং সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন প্রোটিন গ্রহণে। নিরামিষভোজীরা যেখানে পনির, তোফু ও ডালের উপর ভরসা রাখেন, সেখানে আমিষভোজীদের খাদ্যতালিকায় ডিম ও মুরগি অন্যতম প্রধান প্রোটিন উৎস।
কিন্তু প্রশ্ন একটাই, ডিম না মুরগি, কোনটিতে আসলে বেশি প্রোটিন? আর ওজন কমানো বা মাসল বাড়ানোর জন্য কোনটা বেশি উপযোগী?
ডিমের পুষ্টিগুণ
একটি বড় ডিমে সাধারণত ৬-৭ গ্রাম প্রোটিন থাকে। ডিমের আকার অনুযায়ী এই পরিমাণ কিছুটা কমবেশি হতে পারে। ওয়ার্ল্ড এগ অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, একটি বড় সিদ্ধ ডিমে প্রায় ৬.৩-৬.৫ গ্রাম প্রোটিনের পাশাপাশি থাকে ভিটামিন এ, বি১২, কোলিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং অল্প পরিমাণ স্যাচুরেটেড ফ্যাট।
ডিমের একটি বড় সুবিধা হল এটি সম্পূর্ণ প্রোটিন, অর্থাৎ এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নয়টি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডই রয়েছে। ডিমের জৈবিক মূল্য প্রায় ১০০, অর্থাৎ শরীর ডিমের প্রোটিন খুব সহজেই শোষণ করতে পারে। এছাড়া ডিমে থাকা ভিটামিন ডি হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে সাহায্য করে।
মুরগির পুষ্টিগুণ
অন্যদিকে, ১০০ গ্রাম মুরগির বুকের মাংসে থাকে প্রায় ২৭-৩২ গ্রাম প্রোটিন, যা একই ওজনের ডিমের তুলনায় প্রায় ৪-৫ গুণ বেশি। পাশাপাশি এতে রয়েছে ভিটামিন বি৬, বি১২, নিয়াসিন, সেলেনিয়াম ও ফসফরাস, যা শক্তি উৎপাদন, বিপাকক্রিয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ।
মুরগির বুকের মাংসকে চর্বিহীন মাংস বলা হয়, কারণ এতে ফ্যাট কম এবং প্রোটিন বেশি। তাই ওজন কমানো বা ফ্যাট লসের ক্ষেত্রে এটি বেশ কার্যকর।
পুষ্টিগুণের সংক্ষিপ্ত তুলনা
ডিম (৫০ গ্রাম):
ক্যালোরি: ৭০–৭৮
প্রোটিন: ৬–৭ গ্রাম
ফ্যাট: প্রায় ৫ গ্রাম
মুরগির বুকের মাংস (১০০ গ্রাম):
ক্যালোরি: ১৬৫–১৮৭
প্রোটিন: ২৭–৩২ গ্রাম
ফ্যাট: প্রায় ৪ গ্রাম
তাহলে প্রোটিনের জন্য কী খাবেন?
যদি আপনার লক্ষ্য হয় কম ক্যালোরিতে বেশি প্রোটিন নেওয়া এবং দ্রুত পেশি গঠন, তাহলে মুরগির বুকের মাংস নিঃসন্দেহে ভালো বিকল্প, বিশেষ করে ক্রীড়াবিদ ও বডিবিল্ডারদের জন্য। অন্যদিকে, সহজলভ্য, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং তুলনামূলক সস্তা প্রোটিন চাইলে প্রতিদিন ১-২টি ডিম খাওয়া খুবই উপকারী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটিতে আটকে না থেকে খাদ্যতালিকায় ডিম ও মুরগি, দুটিই পরিমিত পরিমাণে রাখা সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। এতে প্রোটিনের পরিমাণ যেমন পূরণ হবে, তেমনই শরীর পাবে নানা ধরনের জরুরি পুষ্টি।
তবে আপনার কোলেস্টেরল, ওজনের লক্ষ্য, শারীরিক অবস্থা ও খাদ্যাভ্যাসের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
এই প্রতিবেদন শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য। খাদ্যাভ্যাসে বড় কোনও পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।