
কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে আর্থিক মন্দা আসতে চলেছে। ইতিমধ্যেই সতর্ক করে দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে এবার ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড়সড় প্রভাব পড়তে চলেছে। ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধের জেরে চাপ বাড়ছে ওষুধ শিল্পের। ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি জানাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ার অস্থির অবস্থায় ওষুধের ঘাটতি ও দামবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এবং তা দেখা যাচ্ছে শীঘ্রই।
ডায়াবেটিস ও হার্টের ওষুধের দামও বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল
কোন কোন ওষুধের দাম বাড়তে পারে? ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি জানাচ্ছে, প্রতিদিনের ব্যবহারিক ওষুধ, বিশেষ করে জ্বরের ট্যাবলেট প্যারাসিটামলের মতো ওষুধের দাম বাড়তে পারে। এছাড়াও সংক্রমণ, ডায়াবেটিস ও হার্টের ওষুধের দামও বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। ওষুধ প্রস্তুতকারকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে খুব শিগগিরই রোগীদের উপর এর প্রভাব পড়বে।
দাম বাড়তে পারে প্যারাসিটামলের
জ্বরের সাধারণ ওষুধ প্যারাসিটামল। জ্বর হলেই প্রতিবাড়িতে প্রথম চিকিত্সা প্যারাসিটামল ট্যাবলেট। সেই প্যারাসিটামল আরও দামী হয়ে উঠতে পারে বা সহজে পাওয়া না-ও যেতে পারে, যদি উৎপাদন কমে যায়। শিল্প মহলের দাবি, ওষুধ তৈরির মূল উপাদান, API, সলভেন্ট ও এক্সিপিয়েন্টের দাম মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে ২০০-৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে। হিমাচলপ্রদেশ ড্রাগ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনএই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠিও দিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, প্যারাসিটামলের কাঁচামালের দাম কয়েক দিনের মধ্যে কেজি প্রতি প্রায় ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫০ টাকায় পৌঁছেছে। একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে অন্যান্য ওষুধেও।
প্যারাসিটামলের মতো বহু ওষুধই ন্যাশনাল লিস্ট অফ এসেনশিয়াল মেডিসিনস-এর আওতায় পড়ে, যেখানে সরকারের নির্ধারিত সর্বোচ্চ মূল্য রয়েছে। অর্থাত্ এই ওষুধগুলি অত্যাবশ্যকীয় তালিকায় রয়েছে। কিন্তু কাঁচামালের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে বর্তমানে সরকার নির্ধারিত দামের মধ্যে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলে দাবি শিল্পমহলের।
প্যাকেজিং ও পরিবহণ খরচও বেড়েছে
ওষুধ সংস্থাগুলির আরও দাবি, ওষুধের প্যাকেজিংয়েও খরচ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ব্লিস্টার প্যাকের জন্য অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল, বোতলের জন্য প্লাস্টিক এবং কাচের কন্টেনারের দামও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে শিপিং রুট ব্যাহত হয়েছে, পরিবহণ খরচ বেড়েছে এবং পেট্রোকেমিক্যালের সরবরাহও কমেছে। যা ওষুধ ও প্যাকেজিং উভয়ের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ।
প্যারাসিটমলের মতো সাধারণ ওষুধগুলি মূলত ছোট ও মাঝারি ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুল বানায়। এরা কম লাভে কাজ করে এবং নির্দিষ্ট মূল্যে সরবরাহের চুক্তিতে আবদ্ধ থাকে। কাঁচামালের দাম বাড়ায় অনেক সংস্থাই উৎপাদন কমানো বা কিছু পণ্য বন্ধ করার কথা ভাবছে। এর প্রভাব পড়তে পারে হাসপাতাল, সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প এবং সাধারণ ওষুধের দোকানে।