
আজও অনেকে বিশ্বাস করেন ঘি খেলে ওজন বাড়ে। এই কারণেই তাঁরা খাদ্যতালিকা থেকে ঘি-কে কার্যত ভ্যানিশ করে দেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ প্রাকৃতিক এবং দেশীয় খাবারের দিকে ফিরে যাচ্ছে। এই কারণেই ঘি ও সরষের তেলের মতো জিনিসগুলি রান্নাঘরে ফিরে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করছেন, সঠিকভাবে ও সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করলে এগুলি ক্ষতিকারক নয় বরং উপকারী। ঘি ও সরষের তেলের স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং কীভাবে সেগুলি সঠিকভাবে ব্যবহার করবেন তা বুঝে নেওয়া যাক।
২০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শেফ আনাল উনিয়াল বলেন, যদি ঘি-তেলের মতো উপাদান সঠিক উপায়ে এবং সঠিক পরিমাণে ব্যবহার করা হয়, তবে এগুলি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী হতে পারে।
ঘি খেলে কি স্থূলতা বাড়ে?
শেফ আনাল উনিয়ালের মতে, ঘি এবং সরষের তেল ওজন বাড়ায় বা অস্বাস্থ্যকর এই বিশ্বাস সম্পূর্ণ ভুল। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ঘি আয়ুর্বেদিক খাদ্যতালিকার একটি অংশ এবং সঠিক পরিমাণে খাওয়া হলে এটি ওমেগা-৯ ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি ভালো উৎস। পাহাড়ি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে সরষের তেলকে একটি প্রাকৃতিক ব্যাথানাশক এবং হৃদরোগের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়।
স্বাদ সম্পর্কে বলতে গিয়ে শেফ জানাচ্ছেন, সরষের তেল একটু ঝাঁঝালো এবং মশলাদার সুবাস দেয়। যার ফলে সবুজ শাকসবজি এবং ভারতীয় খাবারের স্বাদকে আরও বেশি তীক্ষ্ণ করে তোলে। ঘি এর গন্ধ এবং সামান্য বাদামের স্বাদ খাবারে এমন গভীরতা এবং সমৃদ্ধি যোগ করে যা রিফাইন তেল দিয়ে ঠিক পাওয়া যায় না।
ঘি ও সরষের তেল দিয়ে রান্না করার সঠিক পদ্ধতি
সরষের তেল সঠিকভাবে ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তেলের ঝাঁঝালো গন্ধ কমাতে, তেল ভালো করে গরম করতে হবে। যতক্ষণ না এই তেল থেকে সামান্য ধোঁয়া বেরোতে শুরু করছে, ততক্ষণ গরম করতে হবে। এরপর আঁচ কমিয়ে তেলকে কিছুটা ঠান্ডা হতে দিতে হবে। এটি স্বাদ ভালো করে এবং তীক্ষ্ণতা কমায়।
ঘি নিয়ে রাঁধুনিরা বলছেন, এটা রান্না এবং সাজানোর জন্য উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যেতে পারে। রান্নার সময় সামান্য ঘি এবং শেষে আরও কিছুটা যোগ করলে থালায় ঘি এর সুগন্ধ এবং স্বাদ উভয়ই সংরক্ষণ করা হবে।
বি.দ্র: এই খবরটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য। খাদ্যতালিকায় কোনও পরিবর্তন আনার আগে একজন ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করতে ভুলবেন না ।