
মানুষের শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। তাই কখনও কখনও অসুস্থতার লক্ষণ শরীরের অন্য অঙ্গ দিয়েও দেখা দিতে পারে। পায়ের ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটে। পায়ের কিছু পরিবর্তনে শরীরে লুকিয়ে থাকা রোগের প্রাথমিক লক্ষণ ধরা পড়তে পারে। এই লক্ষণগুলি আগে থেকেই শনাক্ত করলে গুরুতর জটিলতা এড়ানো যায়।
বেঙ্গালুরুর অ্যাস্টার আরভি হাসপাতালের সার্জন ডাঃ এ অরুণ কুমার পায়ের কিছু লক্ষণ ব্যাখ্যা করেছেন। এগুলি আসলে গুরুতর অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে।
পা ফুলে যাওয়া
যদি কোনও ব্যক্তির পা, গোড়ালি বা পায়ের পাতা হঠাৎ করে ফুলে ওঠে, তাহলে এটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এটি বিভিন্ন অঙ্গের সমস্যার কারণে হতে পারে। রক্ত চলাচল ঠিকঠাক না হলে, শরীরের টিস্যুতে তরল জমা হতে শুরু করে এটিকে এডিমা বলা হয়।
এই সমস্যা প্রায়শই হার্টের রোগের লক্ষণ হতে পারে। যখন হার্ট ঠিকভাবে রক্ত পাম্প করতে পারে না, তখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে পায়ে তরল জমা হয়। ফলে পা ফুলে যায়। কিডনি বা লিভারের রোগের কারণেও পায়ে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। যদি পায়ের ফোলাভাব হঠাৎ করে বেড়ে যায়, তাহলে শ্বাসকষ্ট বা বুকে কষ্ট হতে পারে। এমন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।
পা ঠান্ডা হয়ে যায়
শীতকালে ঠান্ডা লাগা স্বাভাবিক। তবে গরম পোশাক পরা ও শরীর সঠিকভাবে ঢেকে রাখার পরেও যদি কোনও ব্যক্তির পা অত্যন্ত ঠান্ডা থাকে, তাহলে এটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। এটি পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ (PAD) এর লক্ষণ হতে পারে। এই অবস্থার ফলে পায়ের শিরায় প্লাক তৈরি হয়, যা রক্ত প্রবাহকে কমিয়ে দেয়।
এর ফলে পায়ে ঠিকমতো অক্সিজেন পৌঁছায় না। PAD উপেক্ষা করা বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ এটি হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। শীতকালে এই সমস্যা অনেক বেড়ে যেতে পারে।
রাতে পায়ে ব্যথা:
ক্লান্তিকর দিনের পর ঘুমিয়ে পড়লে অনেক সময় হঠাৎ করেই হাতে ব্যথা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যথা আরও বেড়ে যায়। এটি কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের মধ্যেই কমেও যেতে পারে। কিন্তু যদি একই ঘটনা বারবার ঘটে, তাহলে এটা উপেক্ষা করা ভুল হতে পারে। ঘন ঘন পায়ে ব্যথা জলশূন্যতা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার কারণে হতে পারে। রক্ত প্রবাহের কারণেই দুর্বলতা ও কিডনির সমস্যাও হতে পারে।
পায়ে ঝিনঝিন ভাব:
কখনও কখনও টানা একই জায়গায় বসে বা শুয়ে থাকার ফলে পায়ে অসাড়তা বা ঝিনঝিন ভাব হতে পারে। তবে যদি এই সমস্যা টানা থাকে, তাহলে এটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। পায়ে পিন ফোটানোর মতো ব্যাথা ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথির লক্ষণ হতে পারে।