
স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় চিকেন বরাবরই উপরের সারিতে। কারণ এটি কম ফ্যাটযুক্ত প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস। তবে রান্নার ধরন বদলে দিলেই এই সাধারণ উপাদানেই তৈরি করা যায় সুস্বাদু ও ডায়েট-ফ্রেন্ডলি বহু পদ। বিশেষ করে যারা ওজন কমাতে বা হজম শক্তি বাড়াতে চান, তাদের জন্য তিনটি চিকেন রেসিপি এখন খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
গ্রিলড হার্ব চিকেন ব্রেস্ট
প্রথমেই রয়েছে গ্রিলড হার্ব চিকেন ব্রেস্ট। খুব কম তেলেই তৈরি করা যায় এই পদটি। চিকেন ব্রেস্টকে লেবুর রস, অল্প অলিভ অয়েল, রোজমেরি, থাইম, লবণ ও গোলমরিচ দিয়ে ম্যারিনেট করলেই কাজের অর্ধেক শেষ। এরপর নন-স্টিক প্যানে বা গ্রিলে সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত গ্রিল করুন। সালাদ বা ভাপানো সবজির সঙ্গে খেলেই এটি হয়ে ওঠে সম্পূর্ণ একটি স্বাস্থ্যকর মিল।
এই রেসিপির সবচেয়ে বড় সুবিধা, কম ক্যালোরি, বেশি প্রোটিন। ফলে যারা জিম করেন অথবা লো-ফ্যাট ডায়েট অনুসরণ করেন, তাদের জন্য এটি আদর্শ। পাশাপাশি হার্ব ও লেবুর ফ্লেভার চিকেনকে করে তোলে আরও নরম ও স্বাদে ভরপুর।
চিকেন অ্যান্ড ভেজিটেবল স্টিয়ার-ফ্রাই
দ্বিতীয় রেসিপিটি হলো চিকেন অ্যান্ড ভেজিটেবল স্টিয়ার-ফ্রাই। দ্রুত রান্না করা যায় এবং প্রয়োজন হয় মাত্র সামান্য তেলের। চিকেন স্ট্রিপসকে আদা-রসুন বাটা ও সয়া সস দিয়ে মাখিয়ে একটি কড়াইয়ে ভাজা পেঁয়াজের সঙ্গে হালকা ভেজে নিলেই হবে। এরপর ব্রোকলি, গাজর, বেল পেপারের মতো রঙিন সবজি যোগ করতে হবে।
এই পদে সবজির ক্রাঞ্চি ভাব বজায় রাখাই মূল কৌশল। অতিরিক্ত না সেদ্ধ করে মাঝারি আঁচে কয়েক মিনিট নেড়েচেড়ে নিলেই তৈরি। ব্রোকলি ও বেল পেপারের মতো সবজিতে থাকে প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ, যা শরীরে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
চিকেন ক্লিয়ার স্যুপ
তৃতীয় রেসিপিটি হলো চিকেন ক্লিয়ার স্যুপ। হালকা স্যুপ হলেও রোগ প্রতিরোধ এবং হজমের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী। চিকেনের স্টক তৈরি করে তার সঙ্গে যোগ করা হয় আদা, সামান্য হলুদ, পেঁয়াজ, গাজর এবং সেলারি। খুব কম মশলাতে রান্না হওয়ায় এটি শরীরের ওপর কোনো বাড়তি চাপ ফেলে না।
আদা ও হলুদের উপস্থিতি স্যুপটিকে আরও উপকারী করে তোলে। শীতকালে সর্দি-কাশির সময় এই হালকা স্যুপ দেহ গরম রাখে এবং খেতে সহজ হয়। যারা লো-কার্ব ডায়েট অনুসরণ করেন বা সন্ধ্যায় হালকা কিছু খেতে চান, তাদের জন্য এটি দুর্দান্ত বিকল্প।
এই তিনটি চিকেন রেসিপি কম তেলে, সহজভাবে এবং দ্রুত তৈরি করা যায়। রান্না করতে সময় কম লাগে, প্রোটিন বেশি থাকে এবং শরীরচর্চা করা মানুষ থেকে শুরু করে বয়স্ক, সবার জন্যই উপযোগী। নিয়মিত খাবার তালিকায় রাখলে ওজন নিয়ন্ত্রণ, হজমশক্তি এবং ইমিউনিটি, তিনটিতেই মিলবে ইতিবাচক ফল।