
কোলেস্টেরল এক ধরনের চর্বিজাতীয়, তৈলাক্ত স্টেরয়েড যা কোষের ঝিল্লি বা (সেল মেমব্রেনে)-এ পাওয়া যায় এবং যা সব প্রাণীর রক্তে পরিবাহিত হয়। একটি সুস্থ শরীরের জন্য প্রচুর কোলেস্টেরল প্রয়োজন। কোলেস্টেরল কোষ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি স্নায়ু কোষকে রক্ষা করতে, ভিটামিন ও হরমোন তৈরি করতে কাজ করে।
শীতকালে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে এলডিএল (খারাপ কোলেস্টেরল) দ্রুত বাড়তে পারে। ঠান্ডায় মানুষ কম জল পান করে, শারীরিক কার্যকলাপ কমে যায় এবং ঘি ও মাখনের মতো উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খেতে শুরু করে। এটি সরাসরি হার্টের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে, যা হার্ট ফেইলিওর, হার্ট অ্যাটাক এবং ব্লকেজের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সাহায্যে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিছু নির্দিষ্ট মরসুমী সবজি প্রাকৃতিকভাবে এলডিএল কমাতে এবং এইচডিএল (ভাল কোলেস্টেরল) বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। জেনে নিন কোন কোন সবজি খারাপ কোলেস্টেরল ভাগাতে উপকারী।
মেথি পাতা
মেথি পাতাকে শীতকালের অন্যতম শক্তিশালী সবুজ সবজি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি দ্রবণীয় ফাইবারে সমৃদ্ধ, যা অন্ত্রে এলডিএল কোলেস্টেরল শোষণ করে এবং শরীর থেকে তা বের করে দিতে সাহায্য করে। মেথি পাতা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমায়। আপনি এটি স্যালাড, পরোটা বা সবজি হিসেবে খেতে পারেন।
সবুজ রসুন
সবুজ রসুন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং সালফার যৌগে সমৃদ্ধ। এর অ্যালিসিন ধমনীতে জমে থাকা চর্বি ভাঙতে সাহায্য করে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। নিয়মিত সবুজ রসুন খেলে খারাপ কোলেস্টেরল কমে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি হ্রাস পায়। এটি সবজি, চাটনি বা ডালের সাথে খাওয়া যেতে পারে।
আমলকী
আমলকী একটি ফল হলেও, এটি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সুপারফুড হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি ভিটামিন সি এবং পলিফেনলে সমৃদ্ধ, যা এলডিএল-কে অক্সিডাইজ হতে বাধা দেয়। আমলকী এইচডিএল (ভাল কোলেস্টেরল) বাড়াতেও সাহায্য করে। শীতকালে আমলকীর রস, গুঁড়ো বা মোরব্বা খাওয়া হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
হৃদরোগ প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ টিপস
শুধুমাত্র তিনটি সবজি আপনার হার্টকে সুস্থ রাখার জন্য যথেষ্ট না। আপনাকে কিছু স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার পরিবর্তনও আনতে হবে। যদি হার্টের যে কোনও সমস্যা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চান, তবে এই গুরুত্বপূর্ণ টিপসগুলো আপনার জীবনের অংশ করে নিন।
* প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন।
* ঠান্ডাতেও প্রচুর জল পান করুন।
* ভাজা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে দূরে থাকুন।
* ধূমপান এবং মদ্যপান ত্যাগ করুন।