
ডায়াবেটিস একটি লাইফস্টাইল ডিজিজ। এই অসুখ হলে আপনাকে শরীরের খেয়াল রাখতেই হবে। নইলে বড় কোনও রোগ নিতে পারে পিছু। এক্ষেত্রে হার্ট, কিডনি, চোখ ও স্নায়ুর হাল বিগড়ে যেতে পারে। তাই যেভাবেই হোক সুগার লেভেল কমাতে হবে। আর গ্লুকোজ লেভেলকে কাবু করতে চাইলে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি বলে জানালেন কলকাতার বিশিষ্ট ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডাঃ আশিস মিত্র।
কম ঘুমোলে বাড়তে পারে সুগার
আসলে আমাদের শরীরে গ্লুকোজ লেভেলকে কন্ট্রোল করে ইনসুলিন হরমোন। আর আপনি যদি পর্যাপ্ত সময় না ঘুমোন, তাহলে কিন্তু ইনসুলিনের বিরুদ্ধে কার্যকরী কিছু হরমোন সক্রিয় হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বাড়ে। যার ফলে ইনসুলিন কাজ করতে পারে না। আর সেই কারণেই বেড়ে যায় সুগার। বিশেষত, সকালের সুগার বা ফাস্টিং সুগার বাড়ে বলে জানালেন ডাঃ মিত্র।
কতক্ষণ ঘুমোতে হবে?
সুগার লেভেল কমাতেই হবে। সেক্ষেত্রে রাতে অন্তত ৭ ঘণ্টার ঘুম হল মাস্ট। তাতেই কাজ হবে। দেখবেন সুগার লেভেল থাকবে কন্ট্রোলে, বলে মনে করেন ডাঃ মিত্র।
ঘুমের মানও দেখা জরুরি
শুধু ঘুমোলেই হবে না। কতটা ভালভাবে ঘুমাচ্ছেন সেটাও দেখা জরুরি। এক্ষেত্রে রেস্ট লেস লেগ সিনড্রোম থেকে শুরু করে বারবার বাথরুম যাওয়ার জন্য অনেকেরই ঘুম ঠিকমতো হয় না। আর এই শান্তির ঘুম না হওয়ার কারণেই অনেক ক্ষেত্রে সুগার লেভেল বেড়ে যেতে পারে বলে জানালেন এই চিকিৎসক। তাই কারও যদি কোনও কারণে ঘুম ঠিক ঠাক না হয়, তাহলেও সাবধান হতে হবে।
নাইট শিফট থাকলে
এখন অনেকেই নাইট শিফট করেন। যার ফলে রাতে ঘুম হয় না। আর সেটাই বিপদ বাড়ায় বলে মনে করছেন ডাঃ মিত্র। তিনি বলেন, 'যারা নাইট শিফট করছেন, তারা দিনের কোনও একটা সময় ভাল করে ঘুমোন। আর চেষ্টা করুন একটা বয়সের পর রাতে না ঘুমোনোর। তাতেই দেখবেন সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।'
এছাড়া নিয়মিত সুগার লেভেল মাপতে হবে। সেই মতো কিছু এদিক-ওদিক দেখলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তিনি কোনও ওষুধ খেতে বললে, সেটা খেয়ে যান। তাহলেই ডায়াবেটিস রোগীরা উপকার পাবেন। দেখবেন অঙ্গগুলি ঠিক ঠাক কাজ করবে।
বিদ্র: এই প্রতিবেদটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।