
How Much Red Meat Should Eat: কয়েক দশক ধরে, আমাদের শেখানো হয়েছে যে ঘি, মাখন এবং রেডি মিট স্বাস্থ্যের শত্রু, কিন্তু ২০২৬ সাল শুরু হয়েছে ডায়েটের জগতে এক বিরাট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। মার্কিন স্বাস্থ্য বিভাগ (HHS) '২০২৫-২০৩০ ডায়েটরি গাইডলাইন' প্রকাশ করে সবাইকে অবাক করে দিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে ডাক্তার এবং ডায়েটিশিয়ানদের মধ্যে একটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
নতুন মার্কিন ডায়েটরি গাইডলাইন
হোয়াইট হাউসে এক সংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র ঘোষণা করেছেন যে ঘি, মাখন এবং পূফুল-ফ্যাট দুধের মতো স্যাচুরেটেড ফ্যাটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ। নতুন ডায়েটরি গাইডলাইন অনুসারে, আসল বিপদ হল প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত চিনি। যেখানে ডিম, রেড মিট এবং ফুল-ফ্যাট দুগ্ধজাত প্রডাক্টকে উচ্চমানের প্রোটিনের ভালো উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
এই পরিবর্তন ভারতীয়দের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ডাল, দুধ, দই, ঘি, পনির, ডিম এবং রেড মিট দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ডায়েটের অংশ। এই রিপোর্টে রেড মিটকে হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে পূর্ববর্তী দাবিগুলিকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। তবে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এখনও বিফ, পর্ক এবং খাসির মাংসের মতো চর্বিযুক্ত রেড মিটকে সীমিত করার পরামর্শ দেন, কারণ এগুলিতে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট খারাপ কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে।
ফ্যাটি লিভার রোগীরা কি রেড মিট খেতে পারেন?
ভারতের মানুষ রেড মিট খায়, কিন্তু কোলেস্টেরল এবং ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও ভারতে বেশ বেশি। তাহলে, সবার জন্য কি রেড মিট খাওয়া ঠিক? মুম্বইয়ের কল্যাণে অবস্থিত ফোর্টিস হাসপাতালের সিনিয়র গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডাঃ রাকেশ প্যাটেল Aajtak.in-কে বলেন, 'সারকোপেনিয়া এবং কার্ডিওভাসকুলার লিভারের রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য, অল্প পরিমাণে রেড মিট ক্ষতিকারক নয়। তবে, সসেজ এবং সালামির মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস... তাদের জন্য বিপজ্জনক কারণ এগুলি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।'
ভারতীয় ডায়েটে কি রেড মিট অপরিহার্য?
মেট্রো গ্রুপ অফ হসপিটালসের চেয়ারম্যান-ডায়রেক্টর এবং পদ্মবিভূষণে ভূষিত সিনিয়র ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ (প্রফেসর) পুরুষোত্তম লাল রেড মিট গ্রহণ সম্পর্কে Aajtak.in-এর সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, 'ভারতীয় ডায়েটে রেড মিট অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয় না। পরিমিত পরিমাণে রেড মিট গ্রহণ ক্ষতিকারক নয়। তবে, অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ কোলেস্টেরল, স্থূলতা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই, ভারতীয়দের জন্য সুষম, মরসুমী এবং বাড়িতে রান্না করা খাবার সবচেয়ে ভালো বলে বিবেচিত হয়।'
কতটা রেড মিট খাওয়া উচিত?
ডঃ পুরুষোত্তম লাল বলছেন, ভারতীয়দের জন্য ঘন ঘন রেড মিট যেমন মাটন খাওয়ার প্রয়োজন নেই। এমনকি যদি কেউ রেড মিট খান, তবুও সপ্তাহে একবার বা প্রতি ১০-১৫ দিনে এটি সীমিত রাখাই ভালো। প্রতিদিন বা বেশি পরিমাণে রেড মিট খাওয়া অস্বাস্থ্যকর, এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করতে পারে, হৃদরোগ এবং অন্যান্য বিপাকীয় রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
ডঃ রাকেশ প্যাটেলের মতে, পশ্চিমের দেশগুলির জন্য প্রতি সপ্তাহে ৫০০ গ্রাম রেড মিট খাওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক। তবে, ভারতীয়দের এর চেয়ে কম স্যাচুরেটেড ফ্যাট খাওয়া উচিত, কারণ ভারতীয়রা উচ্চ পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করে। অতএব, অতিরিক্ত ফ্যাট গ্রহণ স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
রেড মিট কি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়?
ডঃ প্যাটেল বলেন, তিনি রেড মিট সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেন না, বিশেষ করে যারা অসুস্থ এবং প্রোটিন ইনটেক বাড়ানোর প্রয়োজন। তবে, সপ্তাহে এক থেকে দুই, অথবা সর্বোচ্চ চারবার খাওয়া যথেষ্ট। রেজ মিট অত্যধিক খাওয়া কোলোরেক্টাল, ক্যান্সার এবং হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে।
টাফ্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ দারিউশ মোজাফেরিয়ানও এক ইন্টারভিউতে বলেছেন, সমস্যাটি কেবল ফ্যাট নয়, বরং রেড মিটে উপস্থিত কিছু ক্যান্সার সৃষ্টিকারী এবং প্রদাহজনক যৌগ, যা ক্যান্সার এবং টাইপ 2 ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ডাঃ দারিউশ মোজাফফারিয়ান সপ্তাহে একবারের বেশি রেড মিট খাওয়ার পরামর্শ দেন না। বেকন, সসেজ, হট ডগ, সালামি এবং ডেলি মাংসের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস এড়িয়ে চলা উচিত অথবা পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
হার্ভার্ডের অধ্যাপক কী বলছেন?
হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের অধ্যাপক ওয়াল্টার উইলেট বিশ্বাস করেন যে রেড মিট এবং বেশি দুগ্ধজাত ফ্যাট খাওয়ার পরামর্শ আমেরিকানদের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকির কারণ হতে পারে। তবে কম চিনি এবং রিফাইন্ড শস্য খাওয়ার পরামর্শটি ভালো। উইলেটের মতে, ২০২৪ সালের একটি ফেডারেল রিপোর্টে মাংস কম এবং বিনস, ডাল, মটর, বাদাম এবং সয়া জাতীয় উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবার বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন যে অসংখ্য বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে উদ্ভিদ প্রোটিন হৃদপিণ্ড এবং শরীরের জন্য বেশি উপকারী, যেখানে রেড মিট এলডিএল কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
প্রক্রিয়াজাত মাংস কি সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলা উচিত?
সসেজ, সালামি এবং বেকনের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। এগুলিতে নুন, প্রিজারভেটিভ এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে, যা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। মাঝে মাঝে অল্প পরিমাণে খেলে তাৎক্ষণিক ক্ষতি নাও হতে পারে, তবে এগুলিকে আপনার দৈনন্দিন ডায়েটের অন্তর্ভুক্ত করা অস্বাস্থ্যকর।