
(লিখছেন ডা: আশিস মিত্র)
ডায়াবেটিসের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। প্রায় সব বাড়িতে ঢুঁ মারলেই এই অসুখে আক্রান্ত রোগী পেয়ে যাবেন। আর এই সব রোগীর মধ্যে একটা বড় অংশের সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে নেই। যার ফলে তাঁদের কিডনি, চোখ, স্নায়ু সহ দেহের একাধিক অঙ্গের বড় ক্ষতি হতে পারে। তাই ডায়াবেটিসকে কন্ট্রোলে রাখা জরুরি। নইলে শরীরের হাল বিগড়ে যেতে সময় লাগবে না।
যদিও ভাল খবর হল, আপনি চাইলে খুব সহজেই সুগারকে কন্ট্রোল করতে পারেন। এক্ষেত্রে সঠিকভাবে ওজন হ্রাস করলে এক ধাক্কায় ডায়াবেটিস রিভার্স পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। তাই ওজন কমান। তাহলেই সুস্থ থাকতে পারবেন।
সুগারের সঙ্গে ওজনের কী সম্পর্ক?
আসলে ওজন বেশির দিকে থাকলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ে। অর্থাৎ ইনসুলিন হরমোন কাজ করার সময় সমস্যার মুখে পড়ে। এর ফলে বাড়তে থাকে সুগার লেভেল। তাই যেভাবেই হোক ফ্যাট কমাতে হবে। তাহলেই সুগারকে কাবু করার কাজে এক ধাক্কায় অনেকটাই এগিয়ে যাবেন।
ডায়াবেটিস রিভার্স করুন
অনেকেরই ডায়াবেটিস সদ্য ধরা পড়েছে। সঙ্গে ওজন অনেকটাই বেশি। আপনারা দ্রুত ২০ শতাংশ মেদ ঝরিয়ে নিন। তাহলে ডায়াবেটিস রিভার্স হতে পারে।
অর্থাৎ ওজন যদি ৮০ হয়, তাহলে ২০ শতাংশ, মানে ১৬ কেজি কমিয়ে দিন। তাহলেই ডায়াবেটিস রিভার্স করার কাজে এগিয়ে যাবেন।
যাঁদের অনেক দিন সুগার রয়েছে...
অনেক দিন ধরে ডায়াবেটিস থাকলে অবশ্য শুধু ওজন কমিয়ে লাভ হবে না। এক্ষেত্রে কমাতে হবে সেন্ট্রাল ওবেসিটি। অর্থাৎ সোজা ভাষায় ভুঁড়ি কমাতে হবে। তাহলেই দেহে ভাল মতো কাজ করতে পারবে ইনসুলিন হরমোন। তাতেই সুগার লেভেল কন্ট্রোলে থাকবে।
ইঞ্জেকশন নয়
মার্কেটে এখন সিমাগ্লুটাইড ইঞ্জেকশনের বিরাট চাহিদা। এই ইঞ্জেকশনের সাহায্যেই ওজন কমাতে চাইছেন অনেকে। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে, এই ধরনের ইঞ্জেকশন সবার জন্য নয়। যাঁরা নিয়মিত এক্সারসাইজ করেন, তাঁদের এই ইঞ্জেকশন দিয়ে লাভ হয়। অন্যদের এই ড্রাগ দিলে মেদের পাশাপাশি পেশি কমে যেতে পারে। যার ফলে বিপদ বাড়তে পারে। তাই এই ধরনের ইঞ্জেকশন নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে চিকিৎসকদের সাবধান হতে হবে।
কীভাবে ওজন কমাবেন?
১. ডায়েটে বদল আনুন। খাবেন না ফাস্ট ফুড, মিষ্টি, ফ্রোজেন ফুড বা প্রসেসড ফুড। তার বদলে হালকা খাবার খান। শাক, সবজি বেশি করে খেতে হবে।
২. নিয়মিত ব্যায়াম করুন। রোজ ৪৫ মিনিট হাঁটতে পারেন। তাতেই সুস্থ থাকার কাজে এগিয়ে যাবেন।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।