
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঝেলছে পশ্চিমবঙ্গ। আজ নিপা নামক যে ভাইরাসের সংক্রমণের সঙ্গে যুঝতে হচ্ছে বাংলাকে, এই একই পরিস্থিতি হয়েছিল ২০০৫ সালে। নিপা ভাইরাস নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে এখনও অফিসিয়ালি কিছু জানায়নি। হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে ও বেশ কয়েকজনকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু ২০০৫ সালে যা ঘটেছিল, তা ছিল রীতিমতো ভয়াবহ। সে বার এপিসেন্টার ছিল উত্তরবঙ্গ, বিশেষ করে শিলিগুড়ি। নিপা ভাইরাসের সঙ্গে তখনও পরিচিতি ঘটেনি। তাই নাম দেওয়া হয়েছিল, 'শিলিগুড়ি জ্বর'। সেই অজানা রোগই ছিল নিপা ভাইরাসের প্রথমবার ভারতে এন্ট্রি।
কী ঘটেছিল ২০০৫ সালে?
তখন রাজ্যে ক্ষমতায় বামেরা। শিলিগুড়ির মেয়র ও তত্কালীন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য। হঠাত্ মোড়ক লাগল শহরে। ঘরে ঘরে জ্বর। দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে দিয়েছিল পরিস্থিতি। সে বার ৪৯জনের মৃত্যু হয়েছিল। ডাক্তাররা বুঝতেও পারছিলেন না, নিপা ভাইরাসেই এই পরিস্থিতি। স্রেফ অজানা জ্বর বা শিলিগুড়ি জ্বর নামেই রোগী ভর্তি করা হচ্ছিল। সেই মৃত্যুমিছিলে একাধিক ডাক্তারও ছিলেন। উত্তরঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের সুপার সঞ্জয় মল্লিক সংবাদমাধ্যমকে ২০০৫ সালের সেই ঘটনার বিষয়ে জানিয়েছেন, ২০০৫ সালে শিলিগুড়িতে ছড়িয়েছিল। তারপর থেকেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
নিপা ভাইরাস সম্পর্কে ধারণা ছিল না কারও
আসলে ২০০৫ সালে যখন শিলিগুড়িতে মারণ জ্বর হতে শুরু করে, তখন নিপা ভাইরাস সম্পর্কে ধারণা ছিল না কারও। ডাক্তাররাও বিভ্রান্তে ছিলেন। ২০০৬ সালে জানা গিয়েছিল, এটা নিপা ভাইরাস। নিপা ভাইরাসে মৃত্যুর হার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ। চিকিত্সা বিজ্ঞানীরা সাধারণ বলে থাকেন, যে ভাইরাসে মৃত্যুহার বেশি, সেই ভাইরাসের সংক্রমণের হার কম হয়। । বাদুড়ের আধখাওয়া ফল ভাল ফলের সঙ্গে মিশে থাকলে সেখান থেকেও ছড়াতে পারে এই ভাইরাস। আক্রান্তের ব্যবহৃত বিছানা, পোশাক অথবা অন্য জিনিসপত্র থেকেও সংক্রমণ হতে পারে।
একটি সংবাদমাধ্যমকে প্রবীণ বাম নেতা অশোক ভট্টাচার্য বলেন, 'আমরা চোখের সামনে দেখছি ডাক্তাররা পালিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যাচ্ছে। সেই সময় কনফিডেন্স দেওয়াটাই ছিল সবথেকে জরুরি। কার্ফুর মতো অবস্থা হয়েছিল।'
কী কী লক্ষণ নিপা ভাইরাসের?
মূলত ভাইরাল জ্বরের মতোই লক্ষণ এই ভাইরাস সংক্রমণের। শ্বাসযন্ত্রে অ্যাটাক করে। জ্বর, বমি, মাথাব্যথা, গলা ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট হয়। বাড়াবাড়ি পরিস্থিতি হলে, স্নায়ুর সমস্যাও দেখা যায়৷ জাপানি এনসেফালাইটিসের মতো।