
শীতকালে খিদে বেশি পায়। পাশাপাশি এই সময় অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতাও বৃদ্ধি পায়। সেই কারণেই জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরানোর পরেও, এই সময় শরীর থেকে মেদ সরানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। যদি এই সময় কোনও ব্যক্তি ডায়েট নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তাও খুব সহজে পেটের চর্বি কমানোর উপায় রয়েছে। এক হেলথ এক্সপার্ট দাবি করেছেন, ১ টাকারও কম দামে এমন উপায় রয়েছে, যা পেটের চর্বি কমে যেতে পারে। আসলে এই টেকনিক ফলোও করলে, খাবার খাওয়ার আকাঙ্খাই অনেকাংশে কমে যাবে। পাশাপাশি এই উপায়ে বিপাক ক্রিয়া বেড়ে যাবে ও ওজন কমাতে সাহায্য করবে।
ব্রিটিশ অধ্যাপক ফ্র্যাঙ্কলিন জোসেফ দাবি করেছেন, "মানুষ মনে করে খাবারের আকাঙ্ক্ষা মস্তিষ্ক থেকে আসে। কিন্তু মানুষের খিদে সাধারণত রক্তে শর্করার মাত্রার সঙ্গে জড়িত। কয়েক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকভাবে ও সুস্বাদুভাবে খাওয়ার পরেও, রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে না, যার জেরে মানুষের খাবারের আকাঙ্ক্ষা থাকেই।"
১ টাকায় কীভাবে পেটের চর্বি কমবে?
ফ্র্যাঙ্কলিন জোসেফ জানাচ্ছেন, দারুচিনি গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। পাশাপাশি, সামান্য দারুচিনি পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি তৈরি করে। এটি খিদে নিবারণ করতেও সাহায্য করে। ফলে মানুষ মিষ্টি এবং জাঙ্ক ফুডের প্রতি আকুল হয়ে উঠতে পারে না। মাসে ৩০ টাকার দারুচিনি কিনলে তা সারা মাসের জন্য যথেষ্ট। অর্থাৎ দিনপ্রতি ১ টাকাও খরচ হবে না।
অধ্যাপক জোসেফের দাবি, দারুচিনিতে এমন যৌগ রয়েছে যা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করে। শরীরকে কার্বোহাইড্রেট আরও দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে দেয়। ফলে হঠাৎ ক্ষুধা বৃদ্ধি রোধ করে।
কীভাবে দারুচিনি খেতে হবে?
এক-চতুর্থাংশ চা চামচ দারুচিনি গরম জলের সঙ্গে মিশিয়ে ভালো করে নাড়তে হবে। এই জলটিই মহাঔষধি। যদি দারুচিনির কাঠি ব্যবহার করেন, তবে পাঁচ মিনিটের জন্য এটা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের একটি সহজ, সস্তা এবং খুব কার্যকর উপায়। মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে এরফলে খিদে চলে যাবে।
সতর্ক থাকুন
এই রেসিপিটি অত্যন্ত কার্যকর। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, যদি অ্যাসিডিটি, দাঁতের সংবেদনশীলতা, বা পেটের আলসারের মতো সমস্যা থাকে, তাহলে দারুচিনি জল খাওয়ার আগে একজন ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।