
(লিখছেন বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: রুদ্রজিৎ পাল)
শীতের খেলা শেষ। এখন পড়ছে গরম। আর এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই হাঁচছেন। একবার হাঁচি শুরু হলে আর থামতে চাইছে না। তাই তাঁরা বেশ সমস্যায় পড়ছেন।
এমন পরিস্থিতিতে প্রথমেই বলি যে, হাঁচি হল একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে শরীর কোনও ফরেন বডিকে (যে কোনও বাহ্যিক জিনিস) নাকের মাধ্যমে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।
যদিও মুশকিল হল, কিছু মানুষের বারবার হাঁচি হতে থাকে। এটা একবারেই স্বাভাবিক ঘটনা নয়। এর পিছনে মূলত দু'টি কারণ থাকে। প্রথমত, এটা হতে পারে অ্যালার্জির জন্য। আর দ্বিতীয়ত, কোনও ভাইরাসের আক্রমণের কারণে এমনটা হতে পারে।
সমস্যা যখন অ্যালার্জি
অনেকেই অ্যালার্জিতে ভোগেন। তাঁদের শরীর অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়। তাই তাঁরা একটু ধুলো, বালি বা ধোঁয়ার সংস্পর্শে এলেই হাঁচি শুরু হয়ে যায়। এছাড়া পোষ্যের লোম থেকেও অনেকের অ্যালাার্জি হয়। তখন পিছু নেয় হাঁচি। তাই এই বিষয়টা সবার প্রথমে মাথায় রাখতে হবে।
ভাইরাস থেকেও বিপদ
এখন ইনফ্লুয়েঞ্জার সময়। পাশাপাশি আরও অনেক ভাইরাস ঘুরছে চারপাশে। আর এই সব ভাইরাস বিপদে ফেলতে পারে। এদের জন্য লাগতে পারে ঠান্ডা। তখন সর্দি, কাশি হতে পারে। পাশাপাশি বিরক্ত করতে পারে হাঁচি।
কী করবেন?
যাঁদের অ্যালার্জি রয়েছে, তাঁদের হাঁচি শুরু হলে চিকিৎসকের বলে দেওয়া অ্যান্টিঅ্যালার্জিক ওষুধ বা নাকের স্প্রে নিন। তাতেই সমস্যা কিছুটা কমবে। তবে এই সব ওষুধ বা স্প্রে নিজের বুদ্ধিতে ব্যবহার করবেন না। তাতে বিপদ বাড়তে পারে। আর অবশ্যই এই সময় ধুলো-বালি, দূষণের জায়গা থেকে বেরিয়ে আসুন। তাহলেই হাঁচি থামবে।
তবে যাঁদের সর্দি, কাশি হয়েছে, তাঁরা ভাপ নিন। আপনারা স্যালাইন নাকের ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন। তাতে কোনও সমস্যা হবে না। তবে কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সমস্যা প্রতিরোধ করুন
কথায় আছে, 'প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর'। তাই এই সমস্যা প্রতিরোধের কয়েকটি সহজ কৌশল জেনে নিন। যেমন ধরুন-
১. প্রথমত আপনাকে ধুলো, ধোঁয়া এড়িয়ে যেতে হবে
২. রাস্তায় বেরল মাস্ক পরুন
৩. অত্যধিক দূষণে রাস্তায় থাকবেন না
৪. পোষ্যের থেকে সাবধান
৫. কারও সর্দি, কাশি হলে সামনে যাবেন না
ব্যাস, এই কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই সুস্থ থাকার কাজে এগিয়ে যাবেন।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। তবে এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র শিক্ষার উদ্দেশে লেখা হয়েছে। আমাদের তরফে এই তথ্যকে নিশ্চিত বলে জানান হচ্ছে না।