
বাঙালির পাতে ভাত, আবার অনেকের রাতের খাবারে রুটি; দু’টোই সমান জনপ্রিয়। কিন্তু অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, ভাত আর রুটি একসঙ্গে খাওয়া কি শরীরের জন্য ঠিক? পুষ্টিবিদদের মতে, বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করে আপনার শরীরের চাহিদা, জীবনযাপন এবং খাবারের পরিমাণের উপর।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভাত এবং রুটি; দু’টিই মূলত কার্বোহাইড্রেটের উৎস। অর্থাৎ, এই দুই খাবার একসঙ্গে খেলে শরীরে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে যায়। ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধি, ব্লাড সুগার বাড়া বা হজমের সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা ডায়াবেটিস বা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে এই অভ্যাস একটু ভেবে নেওয়াই ভালো।
তবে এর মানে এই নয় যে, ভাত-রুটি একসঙ্গে খাওয়া একেবারেই নিষিদ্ধ। পুষ্টিবিদদের মতে, যদি আপনার শারীরিক পরিশ্রম বেশি হয় বা আপনি নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তা হলে শরীর অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট সহজেই ব্যবহার করতে পারে। সেই ক্ষেত্রে সীমিত পরিমাণে ভাত এবং রুটি একসঙ্গে খাওয়া ক্ষতিকর নয়।
হজম মহা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
ভাত তুলনামূলকভাবে সহজপাচ্য, অন্যদিকে রুটি হজম হতে একটু বেশি সময় নেয়। ফলে এই দু’টি একসঙ্গে খেলে হজমের গতি প্রভাবিত হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা অম্লতার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যাঁদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য একসঙ্গে ভাত-রুটি খাওয়ার বদলে আলাদা সময়ে খাওয়া ভালো।
ডায়েট ব্যালান্স করাই আসল
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাবারই হল সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। শুধু কার্বোহাইড্রেট নয়, প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন; সব কিছুর ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। তাই ভাত বা রুটি; যেটাই খান না কেন, তার সঙ্গে ডাল, শাকসবজি, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখলে পুষ্টিগুণ বাড়ে এবং শরীর সুস্থ থাকে।
পরিমাণই নিয়ন্ত্রণ করুন
একসঙ্গে ভাত-রুটি খেলে সমস্যা হতে পারে মূলত অতিরিক্ত পরিমাণের জন্য। তাই যদি খেতেই হয়, পরিমাণ কমিয়ে খাওয়া উচিত। যেমন, এক বাটি ভাতের সঙ্গে একটি ছোট রুটি; এভাবে ভারসাম্য রেখে খেলে শরীরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।
সবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বোঝা সবচেয়ে জরুরি। কারও শরীরে ভাত-রুটি একসঙ্গে খেলে সমস্যা না হলেও, অন্য কারও ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে ডায়েট তৈরি করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।