
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে অনেক পরিবর্তন আসে। শরীরের অভ্যন্তরে হরমোনের পরিবর্তন বাড়ার পাশাপাশি হাড়ও দুর্বল হতে শুরু করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই পরিবর্তনগুলোর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে আমাদের গাঁটে উপর। হাঁটুর ব্যথা, পিঠের শক্তভাব এবং কাঁধের শক্তভাব—এগুলো সবই বার্ধক্যের সাধারণ লক্ষণ।
আসলে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড় দুর্বল হয়ে যায়, পেশী শিথিল হয়ে পড়ে এবং গাঁটের মাঝের তরুণাস্থি ক্ষয় হতে থাকে। এর ফলে ফোলাভাব, শক্তভাব এবং ব্যথা হয়। আজকাল শুধু বয়স্করাই নন, কম বয়সী লোকেরাও গাঁটের ব্যথার অভিযোগ করেন। শীতকালে এই সমস্যা আরও দ্বিগুণ হয়ে যায়। তবে সুখবর হল, একটু যত্ন এবং কিছু সহজ অভ্যাস অবলম্বন করলে জয়েন্টের ব্যথা থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এর মধ্যে একটি পদ্ধতি আমাদের দিদা- ঠাকুমাদের আমল থেকে প্রচলিত। সেটি কী? সেটি হল তেল মালিশ। এখন প্রশ্ন হল, শীতকালে গাঁটের ব্যথা কমাতে কোন তেল ব্যবহার করা যেতে পারে?
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাঁটে কী কী পরিবর্তন হয়?
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাঁটের মাঝের তরল কমে যায়, তরুণাস্থি ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে, লিগামেন্ট শক্ত হয়ে যায় এবং পেশী দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সব কিছুর কারণে গাঁটের উপর চাপ বাড়ে, যা ব্যথা, ফোলাভাব এবং শক্তভাবের কারণ হয়। আজকের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার কারণে এই সমস্যাগুলো কম বয়সী মানুষের মধ্যেও সাধারণ হয়ে উঠেছে।
গাঁটের ব্যথা কমাতে ৫ কার্যকরী মালিশের তেল
যুগ- যজু ধরে হাত-পায়ে তেল মালিশ করার চল আছে। নিয়মিত গাঁটে তেল মালিশ করলে শক্তভাব কমে এবং ব্যথা থেকে মুক্তি মেলে। সঠিক তেল ব্যবহার করলে এই উপকারিতা দ্বিগুণ হতে পারে।
ল্যাভেন্ডার তেল
ল্যাভেন্ডার তেলে প্রদাহরোধী এবং ব্যথানাশক গুণ রয়েছে। এটি জয়েন্টের চারপাশের প্রদাহ কমায় এবং ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়।
আদার তেল
আদার মধ্যে থাকা উপাদানগুলো ফোলাভাব, শক্তভাব এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এটি জয়েন্টের নড়াচড়াও উন্নত করে।
ইউক্যালিপটাস তেল
ইউক্যালিপটাস তেল পেশীর শক্তভাব দূর করে এবং ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়। এতে প্রদাহরোধী গুণ রয়েছে।
অলিভ অয়েল
অলিভ অয়েলে থাকা ওলিওক্যান্থাল নামক উপাদানটি প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এটি পেশীর ব্যথা এবং খিঁচুনিও কমায়।
কর্পূর তেল
কর্পূর তেল প্রায়শই ব্যথানাশক ওষুধে ব্যবহৃত হয়। এটি রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং জয়েন্টের ব্যথা থেকে দ্রুত মুক্তি দেয়।
গাঁটের ব্যথার জন্য এসেনশিয়াল তেল কীভাবে ব্যবহার করবেন?
এসেনশিয়াল তেল সরাসরি ত্বকে লাগাবেন না, কারণ এতে ত্বকে জ্বালা হতে পারে। এগুলো সব সময় নারকেল, বাদাম বা জোজোবা তেলের মতো কোনও বাহক তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করুন।
এটি প্রয়োগ করার একটি সহজ উপায় হল ১৫ ফোঁটা এসেনশিয়াল তেলের সাথে ৬ চা চামচ বাহক তেল মেশানো। তেলটি আলতো করে ব্যথার জায়গায় লাগান এবং একটি গরম কাপড় দিয়ে ঢেকে দিন।
গাঁটের যত্ন নেবেন কীভাবে?
আপনার বয়স যাই হোক না কেন, একটি স্বাস্থ্যকর দৈনন্দিন জীবনধারা বজায় রাখলে আপনার গাঁট দীর্ঘ সময়ের জন্য সুস্থ থাকবে।
প্রতিদিন সক্রিয় থাকা জরুরি
হালকা ব্যায়াম, হাঁটা, যোগব্যায়াম বা স্ট্রেচিং পেশী শক্তিশালী করতে এবং গাঁটের নমনীয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি গাঁটে রক্ত সঞ্চালনও উন্নত করে।
আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
ওজন বাড়লে হাঁটু এবং কোমরের উপর বেশি চাপ পড়ে। শরীরের চর্বি গাঁটের চারপাশে প্রদাহ সৃষ্টিকারী যৌগও নিঃসরণ করে, যা ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
স্বাস্থ্যকর খাবার খান
সঠিক খাবার খেলে তা শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণেই সাহায্য করে না, বরং প্রদাহও কমায়। সবুজ শাকসবজি, ফল, বাদাম এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি জয়েন্টগুলোর জন্য উপকারী। ঘরে তৈরি ম্যাসাজ তেল দিয়ে মালিশ করলেও আরাম পাওয়া যায়।