Peanut Protein Benefit: শীতকাল মানেই মুড়ি-বাদামের জোড়া, কিন্তু জানেন কি এই চিনেবাদাম কেবল স্বাদের নয়, স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এক অসাধারণ খাবার? একে বলা হয় গরিবের ড্রাই ফ্রুট, কারণ এতে বাদাম-কাজুর মতোই বহু পুষ্টিগুণ রয়েছে। অথচ দাম অনেক কম।

Peanut Protein Benefit: শীতকাল মানেই মুড়ি-বাদামের জোড়া, কিন্তু জানেন কি এই চিনেবাদাম কেবল স্বাদের নয়, স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এক অসাধারণ খাবার? একে বলা হয় গরিবের ড্রাই ফ্রুট, কারণ এতে বাদাম-কাজুর মতোই বহু পুষ্টিগুণ রয়েছে। অথচ দাম অনেক কম।
চিনেবাদাম সস্তা, পুষ্টিকর ও সুস্বাদু এক সুপারফুড। এটি শরীরে শক্তি বাড়ায় এবং হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক, ত্বক ও চুলকে সুস্থ রাখে। তবে প্রতিদিন প্রায় ২৫-৩০ গ্রাম বা এক মুঠো চিনেবাদাম খাওয়াই যথেষ্ট; এর বেশি খাওয়া শরীরের ক্ষতি করতে পারে।
১০০ গ্রাম চিনেবাদামে থাকে প্রায় ২৫-২৬ গ্রাম প্রোটিন, যা ডিম (১৩ গ্রাম) বা কাজু (১৮ গ্রাম)-এর তুলনায় অনেক বেশি। তাই নিরামিষভোজীদের জন্য এটি এক অসাধারণ প্রোটিন উৎস। মাংসপেশি গঠন, টিস্যু মেরামত ও শক্তি ধরে রাখার জন্য চিনেবাদাম বিশেষভাবে উপকারী।
চিনেবাদামে থাকা মনো-আনস্যাচুরেটেড ও পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়ায়। ফলে হৃদরোগ, হার্ট ব্লকেজ ও স্ট্রোকের আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। এতে থাকা রেসভেরাট্রল নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদযন্ত্রকে আরও মজবুত রাখে।
অনেকে মনে করেন বাদাম খেলে মোটা হয়ে যায়। আসলে ঠিক উল্টো।চিনেবাদামের ফাইবার ও প্রোটিন পেটকে অনেকক্ষণ ভর্তি রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে ও শরীরের মেটাবলিজম সক্রিয় করে।
চিনেবাদামে থাকে নিয়াসিন ও ভিটামিন বি৩, যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে। এর ফলে আলঝেইমার বা স্মৃতিভ্রংশের মতো রোগের আশঙ্কা কমে। শিশুদের ডায়েটে চিনেবাদাম বা পিনাট বাটার অন্তর্ভুক্ত করা মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে।
এছাড়াও এতে আছে ভিটামিন ই ও জিঙ্ক, যা ত্বক উজ্জ্বল করে ও চুল মজবুত রাখে। এটি বার্ধক্যের গতি কমায় এবং ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখে। এমনকি মুগফলির তেল চুল ও ত্বকের জন্য এক চমৎকার ময়েশ্চারাইজার।
সবশেষে, চিনেবাদামে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুবই কম, ফলে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে দেয় না। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি একটি আদর্শ ও স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস, যদিও পরিমাণে সীমিত খাওয়াই ভালো।