
(লিখছেন বিশিষ্ট স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: জয়তী মণ্ডল)
বন্ধ্যাত্ব এখন একটি অতি চর্চিত সমস্যা। মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা এখন অহরহ দেখা যাচ্ছে। অনেকেই সন্তানের মুখ দেখতে পারছেন না। যার ফলে শেষমেশ IVF করাতে হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হল, কেন মহিলাদের মধ্যে বাড়ছে বন্ধ্যাত্বের মতো জটিলতা? এর পিছনে রয়েছে ঠিক কোন কারণ? আর আজ এমনই ৫ বন্ধ্যাত্বের কারণ নিয়ে আলোচনা করব।
দেরিতে গর্ভধারণ
এখন অধিকাংশ মহিলাই কেরিয়ার নিয়ে ভাবেন। তাই তাঁরা বিয়ে করেন অনেক দেরিতে। তারপর সন্তান নিতে নিতে অনেকটা লেট করে দেন। এমনকী অনেকে বিয়ের প্রথমের দিকে এটা ঠিকই করতে পারেন না সন্তান নেবেন কি নেবেন না। তারপর অনেকটা সময় কেটে যাওয়ার পর সন্তান নেওয়ার কথা ভাবেন। যার ফলে সমস্যা বাড়ে।
আসলে বয়স মোটামুটি ৩৫ পেরলেই ডিম্বাণুর মান কমতে শুরু করে। সেই কারণেই বন্ধ্যাত্ব নিতে পারে পিছু। এক্ষেত্রে সন্তান নিতে হলে ৩৫ বছরের মধ্যেই নিন। তাতে সমস্যার আশঙ্কা কমবে।
AMH কমে যাওয়া
মহিলাদের শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টি মুলেরিয়ান হরমোন থাকা জরুরি। এটি কম থাকার অর্থ ডিম্বাণুর সংখ্যা কমছে। আর বর্তমানে দেখা যাচ্ছে যে অনেক মহিলাদের মধ্যে এই হরমোন কম রয়েছে। আর এমনটা হওয়ার পিছনে জিনের কারসাজি থেকে শুরু করে খারাপ জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের হাত থাকতে পারে।
স্থূলতাও বিপদের কারণ
ওজন কন্ট্রোলে রাখা খুবই জরুরি। যদিও সেই দিকে অনেক মহিলাই নজর দেন না। যার ফলে বাড়ে বিপদ। অত্যধিক ওজনের জন্য পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম পিছু নেয়। আর এই কারণেও বন্ধ্যাত্ব ভোগাতে পারে। তাই এখন থেকে ওজন কমানো জরুরি। নইলে বিপদ বাড়বে।
ধূমপানেই বিপদ
এখন অনেকেই নারীবাদ বা ফেমিনিজমের নামে ধূমপান শুরু করেছেন। এটাকেই স্বাধীনতা ভাবছেন তাঁরা। যদিও মাথায় রাখতে হবে, ধূমপানের সঙ্গে ফেমিনিজমের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সিগারেট খেলে আদতে শরীরের হাল বিগড়ে যায়। কমে যেতে পারে AMH হরমোন। এমনকী ডিম্বাণুর মান খারাপ হয়ে যায়। আর সেটা একবারেই ভালো কথা নয়। এর জন্য বন্ধ্যাত্ব হতে পারে। তাই সাবধান হন।
এন্ডোমেট্রিওসিসও ভয়ের কারণ
এখন বহু মহিলা এই সমস্যায় ভোগেন। এই রোগে আক্রান্ত মহিলার ইউটেরিনের লাইনিংয়ের টিস্যু ইউটেরাসের বাইরেও তৈরি হয়ে যায়। আর এই রোগটির কারণেও অনেক সময় বন্ধ্যাত্বের সমস্যা পিছু নেয়। তাই এই অসুখটা নিয়ে সাবধান হতে হবে।
তাই সতর্ক থাকুন। হেলদি লাইফস্টাইল এবং ডায়েটে ভরসা রাখুন। মদ্যপান, ধূমপান করবেন না। আর একাধিকবার চেষ্টা করার পরও যদি কনসিভ না করতে পারেন, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।