
(লিখছেন বিশিষ্ট নেফ্রোলজিস্ট ডা: অর্জুন রায়)
ডায়াবেটিস রোগীদের কিডনি নিয়ে সাবধান হতে হবে। কারণ, অনিয়ন্ত্রিত ব্লাড সুগার কিডনি সংক্রমণেরও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যার ফল হতে পারে ভয়াবহ।
আসলে অনেক ডায়াবেটিস রোগীই ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনকে অবহেলা করেন। আর এই ভুলটা করেন বলেই বিপদ বাড়ে। ব্যাকটেরিয়া উপরের দিকে কিডনিতে চলে যায়। যার ফলে কিডনিতে ইনকেকশন হয়।
মাথায় রাখতে হবে ডায়াবেটিস স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। যার ফলে বারবার ইউরিন ইনফেকশন হতে পারে। সেখান থেকে ব্যাকটেরিয়া উপরের দিকে গিয়ে কিডনি ইনফেকশন বাঁধাতে পারে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে অবশ্যই সাবধান হন।
এই সব লক্ষণে সাবধান
কিডনির ইনফেকশনের লক্ষণ দেখলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নইলে প্রাণ নিয়ে টানাটানি পড়তে পারে। তাই এর উপসর্গগুলি জেনে নিন-
দ্রুত চিকিৎসা জরুরি
মাথায় রাখতে হবে, এই রোগ শরীরকে বিরাট বিপদে ফেলতে পারে। তাই কোনও রোগ লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডাক্তার আপনাকে ইউরিন কালচার টেস্ট দিতে পারেন। এই টেস্টের মাধ্যমেই জানা যায় যে কোন ধরনের জীবাণু সংক্রমণের জন্য দায়ী। সেই মতো দ্রুত সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক চালু করা যেতে পারে।
তবে অনেক ক্ষেত্রে মুখে খাওয়ার ওষুধে কোনও কাজ হয় না। বরং শিরায় আইভি ইঞ্জেকশন দিতে হতে পারে। তাতে দ্রুত ফল মেলে।
মাথায় রাখবেন, এই অসুখকে অবহেলা করলে চলবে না। এড়িয়ে গেলেই গুরুতর জটিলতা বাসা বাঁধতে পারে। যেমন ধরুন কিডনিতে পুঁজ জমতে পারে। তখন প্রয়োজন হতে পারে অস্ত্রোপচারের।
এছাড়া ডায়াবেটিস বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকা ব্যক্তিদের টিউবারকিউলোসিস বা ফাঙ্গাসজনিত বিরল কিডনি সংক্রমণও হতে পারে। আর এই ধরনের অসুখের অনেক দিন ধরে চিকিৎসা প্রয়োজন। দ্রুত সেরে ওঠার কোনও রাস্তাই নেই। তাই জটিলতা এড়াতে লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
কীভাবে রোগ প্রতিরোধ করবেন?
সহজেই এই অসুখ প্রতিরোধ করা যায়। সেক্ষেত্রে এই নিয়মগুলি মেনে চলুন-
ব্যাস এই কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই সুস্থ থাকবেন।
এই প্রসঙ্গে বলি, কিছু অ্যান্টিডায়াবেটিক ওষুধ, যেমন SGLT2 ইনহিবিটর, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ইউরিন সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই যাঁদের বারবার এই ধরনের সংক্রমণ হচ্ছে, তাঁদের বিষয়টা নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা জরুরি।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।