
Lose Weight Without Exercise: ওজন কমানোর কথা শুনলেই অনেকের মনে প্রথমেই ভেসে ওঠে কঠিন ডায়েট চার্ট, নিয়মিত জিম আর প্রিয় খাবার থেকে দূরে থাকার ভয়। কিন্তু চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, কয়েকটি ছোট অথচ বুদ্ধিদীপ্ত জীবনযাপনের পরিবর্তনেই ধীরে ধীরে কমতে পারে অতিরিক্ত ওজন। কোনও কড়া ডায়েট বা ভারী ব্যায়াম ছাড়াও সম্ভব ফ্যাট বার্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে শরীরের মেটাবলিজমে। সঠিক সময়ে জল পান, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সচেতনভাবে খাওয়ার অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক ক্যালোরি পোড়ানোর ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে ধীরে ধীরে ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে।
দিনভর অল্প অল্প করে পর্যাপ্ত জল পান করলে শরীর থেকে টক্সিন বেরিয়ে যায় এবং মেটাবলিজম সক্রিয় থাকে। বিশেষ করে খাবারের অন্তত আধঘণ্টা আগে জল পান করলে ক্ষুধা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসে। এর ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ক্যালোরি গ্রহণও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ওজন কমানোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল পর্যাপ্ত ঘুম। নিয়মিত ৭–৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম হলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। লেপ্টিন ও গ্রেলিনের মতো ক্ষুধা নিয়ন্ত্রক হরমোন সঠিকভাবে কাজ করে, ফলে অকারণে খিদে পায় না।
খাওয়ার পরিমাণ সামান্য কমানো এবং ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাসও ওজন কমাতে সাহায্য করে। প্রতিটি গ্রাস মন দিয়ে খেলে মস্তিষ্ক দ্রুত বুঝতে পারে পেট ভরেছে, ফলে প্রয়োজনের বেশি খাওয়ার ঝুঁকি কমে।
ডায়েটে সামান্য বেশি ফাইবার ও প্রোটিন যোগ করলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে। এর ফলে ঘন ঘন খাওয়ার ইচ্ছে কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। পাশাপাশি লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার বা ফোনে কথা বলতে বলতে হাঁটার মতো ছোট অভ্যাসও শরীরকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যায়াম অবশ্যই উপকারী। তবে তার আগে এই ছোট জীবনযাপনের পরিবর্তনগুলি নিয়মিত করলে ওজন কমানো অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। ধৈর্য ধরে অভ্যাস বদলালেই মিলতে পারে দীর্ঘস্থায়ী সুফল।