
(লিখছেন নামী চিকিৎসক ডা: উৎসব দাস)
অত্যন্ত উপকারী খাবার হল ড্রাই ফ্রুট। আর সেই কথাটা মাথায় রেখেই অনেকে বাদাম, কিশমিশ ও খেজুর খান রোজ। তাঁরা এভাবেই ডায়েট করেন। যদিও মাথায় রাখতে হবে যে মুঠো মুঠো ড্রাই ফ্রুট রোজ খাওয়া কোনও কাজের কথা নয়। এই খাবারটি মুঠোমুঠো খেলে শরীরের হাল বিগড়ে যেতে পারে। পিছু নিতে পারে একাধিক সমস্যা। তাই সাবধান হতে হবে। নইলে একাধিক জটিল অসুখ নিতে পারে পিছু।
ড্রাই ফ্রুট খাওয়ার কী কী লাভ?
আসলে ড্রাই ফ্রুট অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার। যে কোনও ধরনের বাদামে রয়েছে প্রোটিন। পাশাপাশি উপকারী ফ্যাট পাবেন। এছাড়া কিশমিশ এবং খেজুর থেকে মেলে এনার্জি। তাই চাইলে রোজই খাওয়া যায় ড্রাই ফ্রুট। তবে এটা বেশি খেলে বিপদ বাড়তে পারে। নইলে স্বাস্থ্যের সমস্যার শেষ থাকবে না। এক্ষেত্রে যেই যেই সমস্যা নিতে পারে পিছু-
ওজন বাড়তে পারে
আসলে বাদাম, খেজুর ও কিশমিশে রয়েছে ফ্যাট এবং এনার্জি। তাই এগুলি বেশি পরিমাণে খেলে আদতে শরীরে মেদের ভাগ বাড়তে পারে। যার ফলে ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার রয়েছে আশঙ্কা। তাই এই বিষয়টা নিয়ে সাবধান হন।
হার্টের হাল হতে পারে খারাপ
এমনিতে যে কোনও ধরনের বাদামে রয়েছে উপকারী ফ্যাট। সেটা শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএল কমাতে পারে। তার বদলে বাড়ায় হাই কোলেস্টেরল। আপনি যদি নিয়মিত মুঠো মুঠো ড্রাই ফ্রুট খান, তাহলে আবার উল্টো ফল পাবেন। এমনকী পরিস্থিতিতে অত্যধিক ফ্যাট কিন্তু শরীরের হাল বিগড়ে দিতে পারে। বাড়াতে পারে খারাপ কোলেস্টেরল। হার্টের অসুখে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে।
ফ্যাটি লিভারের বিপদ
অত্যধিক পরিমাণে ড্রাই ফ্রুট খেলে লিভারের সমস্যা নিতে পারে পিছু। হতে পারে ফ্যাটি লিভার। তাই একটু সাবধানে ড্রাই ফ্রুট খান।
কীভাবে খাবেন?
আপনাকে সাবধানে খেতে হবে ড্রাই ফ্রুট। সেক্ষেত্রে দিনে ২টো আখরোট খেতে পারেন। ওয়ালনাট চলতে পারে ২টোর মতো। কিশমিশ খেতে পারেন ১টা থেকে ২টো। এছাড়া খেজুরও ১টা চলবে। তার বেশি নয়।
কারা সাবধান?
যাঁদের সুগার, প্রেশার, কোলেস্টেলের মতো সমস্যা রয়েছে, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই ড্রাই ফ্রুট খান। নইলে বিপদ বাড়তে সময় লাগবে না।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।