
বাংলায় থাবা বসিয়েছে নিপা ভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন দুই রোগী। তাঁদের দুইজনকেই ভর্তি করা হয়েছিল বারাসতের নারায়ণা হাসপাতালে। আর তাঁদের দুইজনেরই স্বাস্থ্যের আপডেট পাওয়া গেল হাসপাতাল সূত্রে।
কেমন আছেন পুরুষ নার্স?
হাসপাতাল সূত্রে জানান হয়েছে, এক সপ্তাহ ধরে শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে পুরুষ নার্সের। তাঁর অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ছে না। তিনি খেতে পারছেন। পাশাপাশি বেড থেকেও উঠতে পারছেন। তাঁর অ্যান্টিভাইরাল কোর্স শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন তিনি ক্লিনিক্যালি স্টেবল রয়েছেন।
এছাড়া তাঁর সব ধরনের ক্লিনিক্যাল প্যারামিটার ঠিক দিকে এগচ্ছে। তাঁর রিপিট আরটি পিসিআর নিপা টেস্টও নেগেটিভ এসেছে। তাই চিন্তা কম।
ডিসচার্জ করা হয়েছে
এই পুরুষ নার্সের স্বাস্থ্যের হাল ভাল রয়েছে। তাই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয়েছে। তাঁকে ডিসচার্জের প্রোটোকলও জানান হয়েছে। ছাড়া পাওয়ার পরও তাঁকে দুই সপ্তাহ বাড়িতেই থাকতে হবে।
আসলে নিপা একটি খতরনাক ভাইরাস। এই ভাইরাস নিয়ে কোনও রিস্ক নিতে চাইছেন না চিকিৎসকেরা। তাই ছাড়া পাওয়ার পরও এই পুরুষ নার্সকে কিছু নিয়ম মেনে চলতে বলা হয়েছে।
মহিলা রোগীর খবর কী?
ওই সূত্রের তরফে জানান হয়েছে, 'এখনও ভেন্টিলেশনে রয়েছেন তিনি। ট্র্যাকিওস্টোমিও রয়েছে। যদিও অক্সিজেনের চাহিদা রয়েছে স্টেবল।'
রোগীকে দেওয়া হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক। পাশাপাশি অন্যান্য ওষুধও চলছে। এখনও তিনি রয়েছেন সঙ্কটজনক। তবে তাঁর বায়োকেমিক্যাল প্যারামিটার সঠিক দিকে এগচ্ছে।
কী পরিস্থিতি এখন?
প্রথম থেকেই নিপা নিয়ে সতর্ক ছিল স্বাস্থ্য দফতর। যার ফলে বাড়াবাড়ি দিকে পৌঁছয়নি পরিস্থিতি। নতুন করে আক্রান্তের খবর মেলেনি। যার অর্থ এই রোগ ছড়ানোর সুযোগই পায়নি।
যদিও এখনও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মেনে চলতে হবে কিছু নিয়ম। যেমন ধরুন-
১. প্রথমত আপনাকে বাদুড়ের থেকে দূরে থাকতে হবে
২. খাওয়া যাবে না শূকরের মাংসও
৩. ফলের উপর কামড়ের দাগ থাকলে সেটা ফেলে দিন
৪. খেজুরের রসও খাবার চলবে না
৫. নিয়মিত হাত ধুয়ে নিন
৬. মুখে মাস্ক পরুন
এই কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই উপকার মিলবে হাতেনাতে। রোগ থেকে দূরে থাকতে পারবেন।
এছাড়া বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে, সর্দি, কাশি ও জ্বর কয়েক দিন থাকলে সাবধান হতে হবে। বিশেষত, মাথা ব্যথা, বিভ্রান্তি এবং খিঁচুনি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া মাস্ট। নইলে বড়সড় সমস্যা হতে পারে।